নারায়ণগঞ্জের দেওভোগস্থ শ্রী শ্রী রাজলক্ষ্মী-নারায়ণ আখড়ায় শনিবার ১-৮-২৬ ইং দিনব্যাপী গীতা আবৃত্তি ও পাঠ প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন, নৃত্য, সংগীত এবং অভিভাবকদের অংশগ্রহণে উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি ও বালিশ খেলা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। লোকনাথ গীতা শিক্ষালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন বাংলাদেশ গীতা পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি শ্রী পদবী সরকার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গীতা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী বিজন কান্তি ধর। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি তিলোত্তমা দাস।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা শ্রী তপন ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক সুশীল দাস, সহ-সভাপতি সাংবাদিক উত্তম সাহা এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শংকর কুমার রায়। জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রী বিজন কান্তি ধর বলেন, “শিশু-কিশোরদের নৈতিক, মানবিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধে গড়ে তুলতে গীতা শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। আজকের এই আয়োজন শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং আগামী প্রজন্মকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার একটি মহৎ উদ্যোগ। এ ধরনের কার্যক্রম দেশের প্রতিটি এলাকায় ছড়িয়ে দিতে হবে।”
প্রধান বক্তা শিখন সরকার শিপন বলেন, “গীতা শিক্ষা মানুষকে সত্য, ন্যায়, শৃঙ্খলা ও মানবতার পথে পরিচালিত করে। শিশুদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ সৃষ্টি করায় লোকনাথ গীতা শিক্ষালয় প্রশংসার দাবিদার। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করি।”
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা সহসভাপতি তিলোত্তমা দাস। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে এমন আয়োজন পারিবারিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। শিশুদের প্রতিভা বিকাশে পরিবার ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আজকের এই আয়োজন তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ছোট-বড় সকল অংশগ্রহণকারীর জন্য ছিল বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা।
প্রতিযোগিতার বিচারক ছিলেন শ্রী গোবিন্দ লাল সরকার, বিপাশা সাহা ও দীপা দাস। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সুমি সাহা ও তিলোত্তমা দাস। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বাংলাদেশ গীতা পরিষদের সভাপতি শ্রী প্রদীপ সরকার।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা লোকনাথ গীতা শিক্ষালয়ের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে ধর্মীয় শিক্ষা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে এ ধরনের আয়োজন আরও বৃহৎ পরিসরে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।