ভূমি সেবায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে একই কর্মস্থলে তিন বছর বা তার বেশি সময় ধরে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পর্যায়ক্রমে বদলির নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র ১ সেপ্টেম্বর জারি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়, একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও স্বার্থসংশ্লিষ্টতা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি দায়িত্ব পালনের নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা ব্যাহত করতে পারে। বিশেষ করে ভূমি ব্যবস্থাপনার মতো জনগুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল খাতে নিয়মিত পদায়ন বা রোটেশনের মাধ্যমে এ ধরনের ঝুঁকি কমানো এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখা সমীচীন।
সরকারের বিদ্যমান নীতি ও নির্দেশনার আলোকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একই কর্মস্থলে দীর্ঘকাল দায়িত্ব পালনে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে একই কর্মস্থলে তিন বছর বা তার বেশি সময় ধরে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পর্যায়ক্রমে অন্যত্র বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের সুযোগ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে পরিপত্রে।
পরিপত্রে প্রত্যেক বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে নিজ অধিক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম, পদবি, বর্তমান কর্মস্থল, বর্তমান কর্মস্থলে যোগদানের তারিখ এবং কর্মকাল উল্লেখ করে একটি হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে।
এরপর ওই তালিকা পর্যালোচনা করে একই কর্মস্থলে তিন বছর বা তার বেশি সময় ধরে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পর্যায়ক্রমে বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
তবে বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড়ও রাখা হয়েছে। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগে প্রশাসনিক প্রয়োজন, জনস্বার্থ, শৃঙ্খলা, অভিযোগ, কর্মদক্ষতা বা অন্য কোনো সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক কারণে বদলির প্রয়োজন হলে প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ভূমি অফিসগুলোতে সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। একই স্থানে দীর্ঘদিন থাকার কারণে একটি চক্র গড়ে ওঠে—এমন অভিযোগও রয়েছে। এই পরিপত্র বাস্তবায়ন হলে ভূমি সেবায় গতিশীলতা আসবে এবং জনগণের আস্থা বাড়বে বলে আশা করছে মন্ত্রণালয়।