দায়িত্ব গ্রহণের ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই নারায়ণগঞ্জে মাদক, সন্ত্রাস ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে গেছেন নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান। জেলাজুড়ে টানা অভিযানে তিন দিনে বিপুল সংখ্যক অপরাধীকে আটকের মধ্য দিয়ে নগরবাসীকে বার্তা দিয়েছেন “ছাড় নেই”।
গত ৩ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি। দুই দিনের মাথায় সন্ত্রাসী গ্রুপের প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আতঙ্ক ছড়ায়। এর মধ্যেই নগরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় মাদক কেন্দ্রিক বিরোধের জেরে গুলিতে নিহত হন যুবক শুভ চন্দ্র দাস (৩০)।
এমন প্রেক্ষাপটে এসপির প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে টানবাজার, জিমখানা ও ঋষিপাড়া এলাকায় বড় পরিসরে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। একইসঙ্গে জেলার সাতটি থানায় সমন্বিত অভিযানে শনিবার ১২২ জন, রোববার ১০৩ জন এবং সোমবার চাষাঢ়া রেলস্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকসহ ৯ জনকে আটক করা হয়। মোট আটক ২৪৩ জন।
চাষাঢ়ায় শুভ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনেও দেখা গেছে পুলিশের দ্রুততা। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনায় জেলা ডিবি ৩ আসামিকে গ্রেফতার করে।
পুলিশের এই দৃশ্যমান তৎপরতায় মাদক ও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা। তবে সচেতন মহলের মতে, আটককৃতদের বড় অংশ মাদকসেবী ও খুচরা কারবারি হওয়ায় অভিযানের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে সংশয় রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘনবসতিপূর্ণ শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের যোগসূত্র রয়েছে। তাই শুধু মাঠপর্যায়ের কর্মীদের গ্রেফতার করে স্থায়ী সমাধান আসবে না।
আইনশৃঙ্খলার দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নে নাগরিকরা কয়েকটি নির্দিষ্ট দাবি তুলেছেন: গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়ে মাদকের মূল ডিলার ও সরবরাহকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার। নগরের চিহ্নিত মাদক স্পটগুলো পুরোপুরি বন্ধ করা। অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিচয় বিবেচনা না করে আইনি ব্যবস্থা।
কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ ও অবৈধ অস্ত্রের মহড়া বন্ধে নিয়মিত অভিযান।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন,
নারায়ণগঞ্জকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে। আমাদের কাছে পুরনো ও নতুন মাদক স্পটের তালিকা আছে। শুধু খুচরা নয়, মূল হোতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। মাদকই সকল অপরাধের মূল। মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকব। পাশাপাশি যানজট নিরসনেও কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। জনগণের সহযোগিতা পেলে নারায়ণগঞ্জকে দেশের রোডমডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
শিল্প ও বাণিজ্য নগরী নারায়ণগঞ্জে নতুন পুলিশ সুপারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—এই সাঁড়াশি অভিযানকে গণআটক বা সাময়িক তৎপরতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কতটা ধারাবাহিক ও কার্যকর রাখা যায়। সচেতন মহলের মতে, আগামী দিনগুলোতে অভিযানের প্রকৃত ফলাফলই বলে দেবে, নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নবাগত এসপির উদ্যোগ কতটা টেকসই পরিবর্তন আনতে পারছে।তবে বর্তমান পুলিশ সুপারের অপরাধীদের বিরুদ্ধে অব্যাহত অভিযানে সাধুবাদ জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল ও সুশীল সমাজ।