বন্দর থানার কদম রসুল, মাঠপাড়া ও উলসন রোড এলাকার স্কুলছাত্র মো. রোমানের(১৭) সুচিকিৎসা, ন্যায়বিচার এবং মামলা থেকে অব্যাহতির দাবিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন এলাকাবাসী।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) এলাকাবাসীর পক্ষে মা জরিনাসহ প্রায় অর্ধশত এলাকাবাসীর স্বাক্ষরিত পৃথক স্মারকলিপিতে এ দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২০ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে বন্দর থানার সালেহনগর এলাকায় বুলবুল নামে এক ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এ ঘটনায় পুলিশ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। এলাকাবাসী হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তবে তাদের অভিযোগ, ওই মামলার আসামি জুম্মানের ভাই হওয়ার কারণে মো. রোমানকে গত ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বন্দরস্থ সিটি কর্পোরেশনের সামনের একটি হোটেল থেকে ধরে নিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার একটি পা ভেঙে যাওয়াসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে এবং কোমরেও গুরুতর আঘাত করা হয়েছে বলে স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়।
পরে রোমানকে বন্দর থানায় সোপর্দ করা হয় এবং বর্তমানে সে কারাগারে রয়েছে বলে জানানো হয়।
রোমান বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ বাগবাড়িস্থ হাজী সিরাজউদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থী। এলাকাবাসী দাবি করেন, রোমান একজন মেধাবী ছাত্র। অন্যের অপরাধের দায় তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, “অপরাধ যার, শাস্তি তারই হওয়া উচিত। একজনের অপরাধের কারণে অন্য কেউ যেন শাস্তির শিকার না হন।”
জানাযায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর বন্দর থানাধীন শাহী মসজিদ এলাকা হইতে সংঘাতে শিশু মোঃ রোমান (১৭), কে মামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহ আটক করিয়া মারপিট করতঃ দুই পা সহ শরীরের বিভিন্নস্থানে জখম করিয়া বন্দর থানা পুলিশকে সংবাদ দিলে অফিসার ফোর্স সহ বন্দর থানাধীন শাহী মসজিদ ঠাকুরবাড়ী এলাকায় উপস্থিত হয়ে রিক্সা গ্যারেজ হইতে শিশু মোঃ রোমান (১৭), কে হেফাজতে গ্রহণ করে এবং দেহ তল্লাশীকারে তার ব্যবহৃত একটি কালো রংয়ের স্মার্ট মোবাইল ফোন জব্দ করে। শিশু রোমান বন্দর উপজেলার নবীগঞ্জ কদমরসুল বাগবাড়ি ‘হাজী সিরাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়’ ৯ ম শ্রেনীর ছাত্র।
এলাকাবাসী রোমানের দ্রুত সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তদন্তে সে নির্দোষ প্রমাণিত হলে আইনানুগভাবে মামলা থেকে অব্যাহতি ও মুক্তির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।