দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কঠোর অবস্থান ও মাদকবিরোধী তৎপরতার কারণে নারায়ণগঞ্জে আবারও ‘সিংহাম’ হিসেবে আলোচনায় এসেছেন নতুন পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান। তার নেতৃত্বে জেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে প্রশংসা পাচ্ছেন তিনি।
গত কয়েকদিনে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও একাধিক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। বিশেষ করে নগরীর শিল্পাঞ্চল, বাসস্ট্যান্ড ও নদীপথ সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের দৃশ্যমান টহল ও চেকপোস্ট বৃদ্ধি পাওয়ায় ছিনতাই ও মাদক কেনাবেচা কমেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মাদক নির্মূলে পুলিশের এমন তৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করছেন নারায়ণগঞ্জের অনেক বাসিন্দা। নগরীর এক ব্যবসায়ী বলেন, আগে সন্ধ্যার পর রাস্তায় বের হতে ভয় লাগত। এখন পুলিশের টহল চোখে পড়ে। এসপি স্যার কঠোর হাতে চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী, কিশোর গেং ও মাদকের বিরুদ্ধে নেমেছেন।
একজন শিক্ষকের ভাষ্য, কিশোর গ্যাং ও মাদকের কারণে ছেলেমেয়েরা বিপথে যাচ্ছিল। নতুন এসপির অভিযান দেখে মনে হচ্ছে প্রশাসন এবার সিরিয়াস।
তাদের প্রত্যাশা, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান এই অভিযান যেন কোনোভাবেই থেমে না যায়। মাদকমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে নবাগত পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, নারায়ণগঞ্জকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছি। শুধু খুচরা বিক্রেতা নয়, মাদকের গডফাদার ও পৃষ্ঠপোষকদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া এ অভিযান সফল হবে না।তাই সকলের সহযোগিতা চাই।
তিনি আরও জানান, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও ছিনতাই রোধে বিশেষ টিম কাজ করছে। পাশাপাশি থানায় সেবা নিতে আসা মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়েও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও হাবিবুর রহমান দেশের বিভিন্ন জেলায় মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ভূমিকার জন্য ‘সিংহাম’ উপাধি পেয়েছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর নারায়ণগঞ্জেও তার একই ধরনের কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ নতুন করে ভরসা পাচ্ছেন।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন চারদিনে মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুলসংখ্যক ফেনসিডিল, মদ, বিয়ার, গাঁজা সহ অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।