এসএসি ও সমমান পরীক্ষায় কৃতিত্বের জন্য ঢাকা জেলার ২৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন চিঠি পাঠিয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। চিঠির সঙ্গে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে বই, ফুল ও মিষ্টি।
শনিবার দুপুরে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
মেধাবীদের উদ্দেশে ফরিদা খানম লিখেছেন,প্রিয় শিক্ষার্থী, তোমার হাতে এই চিঠিটি যখন পৌঁছাবে, হয়ত তুমি ভাববে, জেলা প্রশাসক কেন একজন শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে চিঠি লিখছেন? কারণ, তোমার মধ্যে আমি শুধু আজকের একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকেই নয়, আগামী দিনের একজন আলোকিত মানুষকে দেখতে পাচ্ছি।
তিনি আরও লেখেন, এসএসসি পরীক্ষায় তোমার এই আকাশছোঁয়া ও গৌরবময় সাফল্যে ঢাকার জেলা প্রশাসন এবং আমার পক্ষ থেকে তোমাকে জানাই হৃদয়ের গভীর থেকে উষ্ণ অভিনন্দন। এই বিজয় কেবল তোমার মেধা ও বিনিদ্র রজনীর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল নয়, এটি তোমার বাবা-মা ও শিক্ষকদের অবিচল আস্থা এবং ত্যাগের এক মহিমান্বিত রূপ।
উচ্চ মাধ্যমিকে পা দেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে ডিসি বলেন,এটি কোনো গন্তব্য নয়, বরং এক মহাজাগতিক যাত্রার শুরু মাত্র। কেবল জিপিএ-৫ এর ফ্রেমে নিজেকে আটকে না রেখে তথ্যপ্রযুক্তি, মানবিক মূল্যবোধ ও গভীর দেশপ্রেমে বলীয়ান হও। তোমার মেধা দিয়ে আগামীর উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে নেতৃত্ব দেবে—এটিই প্রত্যাশা।
চিঠির শেষে তিনি লিখেছেন, হয়ত অনেক বছর পর তুমি এই চিঠিটি আবার পড়বে। সেই দিনটিতে যেন তুমি ফিরে তাকিয়ে বলতে পারো, আমি আমার স্বপ্নকে সম্মান করেছি, আমার মেধার মর্যাদা রেখেছি এবং একজন ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করেছি।
অভিনন্দনপত্রের সঙ্গে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয় বই, ফুল ও মিষ্টি। ডিসির এই আকস্মিক উদ্যোগে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষও এ উদ্যোগকে ‘অনুপ্রেরণাদায়ী’ বলে মন্তব্য করেছে।
শিক্ষা প্রশাসনের ইতিহাসে এ ধরনের সরাসরি চিঠি নতুন নয়। ২০০২ সালে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও সরাসরি চিঠি ও দুটি করে বই উপহার পাঠিয়েছিলেন। প্রায় ২৪ বছর পর জেলা পর্যায়ে ফের এমন ব্যক্তিগত উদ্যোগ নজর কেড়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা আমাদের দায়িত্ব। তাদের সাফল্য শুধু পরিবার বা প্রতিষ্ঠানের গর্ব নয়, এটি ঢাকা জেলারও গর্ব। এই ছোট্ট উপহার ও চিঠির মাধ্যমে আমি তাদের জানাতে চেয়েছি, তাদের মেধা ও স্বপ্নের প্রতি জেলা প্রশাসনের আন্তরিক শুভকামনা রয়েছে। ভবিষ্যতে তারা যেন ভালো ফলাফলের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধে নিজেদের গড়ে তুলে দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দিতে পারে।
প্রশাসনের এই উদ্যোগকে শিক্ষাবিদরা ‘মোটিভেশনাল গভর্নেন্স’-এর উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করার এমন বার্তা নতুন প্রজন্মের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।