• শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ন
Headline
শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিতকারীদের আইনের আওতায় এনে শান্তিপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ গড়তে কাজ করছে জেলা পুলিশ : এসপি মিজানুর রহমান মুন্সী ৯টা–৫টার দায়িত্বে সমাজ বদলাবে না: ডিসি জাহিদ ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে জেলাবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতির পথে চলার আহ্বান এসপি মিজানুর রহমান মুন্সির ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে মহানবীর (সা.) আদর্শে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে শান্তিপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ গড়ার আহ্বান ডিসি রায়হান কবিরের প্রি-পেইড মিটার বাতিলের দাবীতে নাগরিক অধিকার ফোরামের গণ অনশন নিউইয়র্কে ৪০তম ফোবানা সম্মেলনের হোস্ট কমিটির সিনিয়র উপদেষ্টা হলেন হাকিকুল ইসলাম খোকন বাস্তব প্রশিক্ষণ প্রদান কালে বুদ্ধিমত্তা ও পেশাদারিত্বই আধুনিক পুলিশিংয়ের মূল চালিকাশক্তি : পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন বাংলাদেশের সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে চায় ইউএনডিপি ফুলেল শুভেচ্ছা,দোয়া ও সাংবাদিকদের মিলনমেলায় অনুষ্ঠিত হলো জান্নাতের ৯ম জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠান প্রাইম মিনিস্টার জাতীয় গোল্ডকাপ প্রস্তুতিতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়তে এ আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ :ডিসি রায়হান কবির

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আকাশ প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আলোকিত হবে: মানবিক ডিসি জাহিদ

বিদ্যুৎ টাইমস ডেস্ক / ৬৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

চোখে পৃথিবীর আলো দেখতে পান না আকাশ দাস। কিন্তু থেমে নেই তাঁর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন। অন্য শিক্ষার্থীরা বইয়ের পাতায় চোখ রেখে যে পাঠ পড়েন, আকাশ সেই পাঠ শোনেন প্রযুক্তির সহায়তায়। ক্লাসের লেকচার রেকর্ড করা, স্ক্রিন রিডারের মাধ্যমে পাঠ্যবিষয় শোনা কিংবা প্রয়োজনীয় বই ও গবেষণাপত্র খোঁজা—পড়াশোনায় প্রযুক্তিই তাঁর অন্যতম ভরসা।

তবে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতায় প্রয়োজনীয় একটি স্মার্টফোন কিনতে পারছিলেন না আকাশ। তাঁর সেই প্রয়োজনের কথা জানতে পেরে পাশে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নিজের কার্যালয়ে আকাশের হাতে একটি নতুন স্মার্টফোন তুলে দেন তিনি। এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, ‘দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আকাশ প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আলোকিত হবে।’

আকাশ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে স্নাতক চতুর্থ বর্ষে পড়ছেন। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা তাঁর উচ্চশিক্ষার পথ থামাতে পারেনি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপযোগী ব্রেইল পাঠ্যপুস্তকের অপ্রতুলতার কারণে পড়াশোনায় তাঁকে অনেকটাই নির্ভর করতে হয় অডিও রেকর্ডিং ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর।

শ্রেণিকক্ষের লেকচার থেকে শুরু করে পাঠ্যবই ও গবেষণাপত্র—অনেক কিছুই তাঁকে রেকর্ড করে বা স্ক্রিন রিডারের মাধ্যমে শুনে আয়ত্ত করতে হয়। এ কারণে একটি স্মার্টফোন তাঁর কাছে শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, পড়াশোনারও গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ।

কিন্তু আর্থিক সংকটে প্রয়োজনীয় ডিভাইসটি সংগ্রহ করতে না পেরে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন আকাশ। আবেদনটি নজরে আসার পর তাঁর প্রয়োজন ও পারিবারিক পরিস্থিতির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়। পরে তাঁকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়।

সেখানে আকাশের সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক। তাঁর পড়াশোনা ও পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি জানতে চান, ‘আজ কী পরীক্ষা ছিল? পরীক্ষা কেমন হয়েছে?’

কথোপকথনের একপর্যায়ে আকাশের হাতে নতুন স্মার্টফোনটি তুলে দেন মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এরপর জানতে চান, ‘মোবাইলটি পেয়ে খুশি তো?’

স্মার্টফোন পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আকাশ। তিনি জানান, নতুন ফোনটি ক্লাসের লেকচার রেকর্ড করা, অডিও শুনে পড়াশোনা, পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী ও গবেষণার তথ্য সংগ্রহে কাজে লাগবে।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা স্মার্টফোনের স্ক্রিন রিডার ও ভয়েস কমান্ডের মতো সুবিধা ব্যবহার করে ডিজিটাল লেখা শুনতে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজতে পারেন। ফলে নতুন ফোনটি আকাশের উচ্চশিক্ষার পথ কিছুটা সহজ করবে।

চোখে দেখতে না পেলেও সমাজতত্ত্বে উচ্চশিক্ষা শেষ করার স্বপ্ন দেখেন আকাশ। একটি স্মার্টফোন তাঁর পথের সব বাধা দূর করবে না। তবে জ্ঞান অর্জনের পথটি কিছুটা সহজ করবে। জেলা প্রশাসকের ভাষায়, ‘দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আকাশ প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আলোকিত হবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা