না.গঞ্জের রাজনৈতিক ইতিহাসে সর্ব প্রথম চার বারের এমপি ও গণমানুষের নেতা প্রয়াত আলহাজ্ব নাসিম ওসমান’র ৭৩ তম জন্মদিন। প্রয়াত এই কালজয়ী নেতার জন্য সকলের কাছে সামাজিক মাধ্যমে দোয়া চেয়েছেন একমাত্র পুত্র আজমেরী ওসমান।
নাসিম ওসমানের পিতা এ কে এম শামসুজ্জোহা ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য। তিনি ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর আবার ১৯৭৩ সালে একই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। নাসিম ওসমানের স্ত্রীর নাম পারভিন ওসমান। এই দম্পতির এক ছেলে আজমির ওসমান ও দুই কন্যা।
নাসিম ওসমান রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দলীয় রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের জোটভুক্ত জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের সাংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন এবং জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য পদ লাভ করেন।
তার বাবা এ কে এম শামসুজ্জোহা ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম সহচর। পরবর্তীতে নাসিম ওসমান বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে পড়েন। তিনি পরপর ৪ বার বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির হয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, যথাক্রমে ১৯৮৬, ১৯৮৮, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হলে নাসিম ওসমান যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে ভারতে চলে যান। সেখানে তিনি গেরিলা যুদ্ধ প্রশিক্ষণ শেষ করে দেশে ফিরে এসে যুদ্ধ করেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবারের সকলের সাথে হত্যা করা হয়। তার আগের দিন ১৪ আগস্ট তিনি পারভীন ওসমানকে বিয়ে করেন। বিয়েতে শেখ মুজিবুর রহমানের পুত্র শেখ কামাল উপস্থিত ছিলেন। ১৫ আগস্ট স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হলে নাসিম ওসমান নবপত্নীকে ফেলে হত্যার প্রতিশোধ নিতে চলে যান ধানমন্ডি বাস ভবনে। তিনি ঢাকায় প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।তিনি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর বাহিনীতে যোগ দেন। এরপর তিনি আবার ভারতে চলে যান এবং সেখানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেন। তৎকালীন কাদরী বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
২০১৪ সালের ১৮ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য নাসিম ওসমানকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। দিল্লিতে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি দেরাদুন যান। সেখানে একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থানকালে আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি ৩০ এপ্রিল, ২০১৪ সালে মৃত্যু বরণ করেন।
তার মৃতদেহ ভারত থেকে দেশে আনারপর দুটি পৃথক জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমটি জাতীয় সংসদ ভবনে এবং পরেরটি নারায়ণগঞ্জের ডিআইটি মসজিদ প্রাঙ্গণে। নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে যতোগুলো সবচেয়ে বড় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে কালজয়ী নেতা নাসিম ওসমানের। জানাজায় লোকে লোকারণ্য ছিল। দলমত নির্বিশেষে সকলস্তরের মানুষ তাকে শেষ বিদায় ও বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। জানাজাটি ডিআইটি মসজিদ প্রঙ্গনে শুরু হলেও মন্ডল পাড়া পুল থেকে উকিল পাড়া এলাকা পযর্ন্ত লোক জনের অংশ গ্রহন দেখা যায়। মহান আল্লাহ্ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন।
প্রয়াত নেতা এ কে এম নাসিম ওসমানের জন্মদিন উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ কে এম নাসিম ওসমানের একমাত্র পুত্র আজমেরী ওসমান তার মরহুম পিতার জন্য শ্রদ্ধা নিবেদন করে যা লিখেছেন তা তুলে ধরা হলো,”আজ বড় বিষণ্ণতার ছায়া, অথচ বাতাসে মনের মুকুরে ভেসে বেড়ায় এক চিরচেনা কণ্ঠস্বর। ” দিনশেষে জনগণের সাথে কাজ করে যখন ঘড়ে ফিরত তখন পরিবারের সকলের কাছে উপন্যাসের কোনো কাল্পনিক নায়ক মনে হতো না ।
রক্ত-মাংসের এক জীবন্ত ইতিহাস – যাঁর সাহসিকতা, ভালোবাসা আর নেতৃত্ব আগলে রেখেছিল পুরো নারায়ণগঞ্জকে।
সময়ের স্রোত আপনাকে আমাদের চোখের আড়াল করেছে ঠিকই, কিন্তু সাধারণ মানুষের হৃদয়ের ক্যানভাসে এক অসম্ভব গল্প হয়ে আপনি অমর হয়ে আছেন। আমার বাবা’র জন্য দোয়া’র দরখাস্ত রইল আজমেরী ওসমান নারায়ণগঞ্জ ।