• রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৭ অপরাহ্ন
Headline
স্পীকারের সাথে ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত জঘন্য অপরাধের ঘটনায় দ্রুততম সময়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জে জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির নির্দেশ ডিসির আত্মকর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা: নারায়ণগঞ্জ সদরে মাশরুম চাষ প্রশিক্ষণ শুরু গাজীপুরে মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের ৯৬ সদস্যের কমিটি ঘোষণা, সভাপতি আসাদ খান, সম্পাদক রশিদ মন্ডল “সুন্দর শান্তিময় নারায়ণগঞ্জ চাই” শ্লোগানকে ধারন করে নাগরিক অধিকার ফোরামের প্রতিনিধি সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জে প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে নাগরিক অধিকার ফোরামের মশাল মিছিল ডেঙ্গু প্র-তিরোধে সদরে বাগডুমারী খাল পরিষ্কারে ডিসি-ইউএনও হাসপাতালের লাইন দীর্ঘ না করতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে: ডিসি জাহিদ ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকল উপজেলায় একযোগে র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডিসি জাহিদের দেওয়া হুইলচেয়ারে বদলে গেল প্রতিবন্ধী শওকতের জীবন

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ / ১১৯ Time View
Update : রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে নতুন মোটরচালিত হুইলচেয়ারে বসে ছিলেন ২৮ বছর বয়সী শওকত হোসেন। পাশে দাঁড়িয়ে মা সানু বেগমের চোখে স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতার ছাপ। দীর্ঘদিন পর তাঁর মনে হলো, ছেলেটা এবার নিজের মতো চলতে পারবে।

বন্দর থানার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শওকত জন্মের দুই বছর পর থেকেই প্যারালাইজড। জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে ঘরের এক কোণে। বাবা নুর মোহাম্মদ নিরাপত্তাকর্মী। সীমিত আয়ে চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যয় পরিবারটিকে বিপর্যস্ত করে তোলে।

সানু বেগম জানান, একটি হুইলচেয়ারের জন্য তিনি অনেকের দ্বারে গেছেন। আশ্বাস মিললেও সহায়তা পাননি। শেষ ভরসা হিসেবে গত বুধবার তিনি যান সারা বাংলাদেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে।

“আমি মোটরের হুইলচেয়ার চাইতেও পারিনি। শুধু বলেছিলাম, একটা হুইলচেয়ার হলে ছেলেটা একটু বসতে পারত। স্যার ধৈর্য ধরে শুনেছেন,” বলেন সানু বেগম।

জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। শনিবার জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে শওকতের হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন মোটরচালিত হুইলচেয়ার। পাশাপাশি ওষুধ ও পুষ্টিকর খাবার কেনার জন্য নগদ আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়।

“বৃষ্টির সময় ঘরে পানি পড়ে। আমার পঙ্গু ছেলেটা ভিজে থাকত। এখন অন্তত হুইলচেয়ার নিয়ে একটু বাইরে যেতে পারবে,” বলেন সানু বেগম।

সহায়তা প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “সমাজের অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। জেলা প্রশাসন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।”

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের লাল ভবনের সামনে সেদিন কোনো বড় রাষ্ট্রীয় ঘোষণা হয়নি। কিন্তু এক অসহায় পরিবারের জন্য সেটি ছিল জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া বিকেল। কারণ, কখনো কখনো একটি হুইলচেয়ার শুধু চলাচলের মাধ্যম নয়—এটি হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার নতুন সাহস।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা