গ্যাস সরবরাহ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় দেশের শিল্প খাতে ভয়াবহ মানবিক ও আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। বিশেষ করে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে উৎপাদন কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি খাতেও বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন শিল্প মালিকরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল কার্যালয়ে আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতে সংকট উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক সংলাপে এসব কথা বলেন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
তিনি বলেন, আগামী ১০ আগস্টের আগে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে প্রায় ২৫ দিন ধরে কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যত বন্ধ থাকবে। এতে নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য পাঠানো সম্ভব হবে না। ক্রেতাদের সন্তুষ্ট রাখতে বাধ্য হয়ে আকাশপথে (এয়ার শিপমেন্ট) পণ্য পাঠাতে হতে পারে। এতে মোট রপ্তানি মূল্যের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘গ্যাস সরবরাহ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় শিল্প খাতে এক ভয়াবহ মানবিক ও আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাস নেই। আগামী ১০ আগস্টের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে প্রায় ২৫ দিন কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যত বন্ধ থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ে ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব না হলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বিকল্প হিসেবে ছাড় দাবি করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ক্রেতারা অন্তত ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট চাইতে পারেন। ফলে একদিকে যেমন উৎপাদন বন্ধ থাকবে, অন্যদিকে রপ্তানি আদেশ ধরে রাখতেও বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে শিল্প মালিকদের।
গ্যাস সংকট শুধু উৎপাদন ও রপ্তানিকে নয়, শিল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত শ্রমিকদের জীবন-জীবিকাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে বলে জানান বিকেএমইএ সভাপতি।