• বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন
Headline
আন্তর্জাতিক সংগঠন এনপিজেএ বাংলাদেশ কমিটির প্রধান উপদেষ্টা হলেন এডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বিদায়ী কুষ্টিয়ায় পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন ও পুনাক সভানেত্রী ক্যামেরার লেন্সে পৃথিবীর সৌন্দর্য বিশ্ব ফটোগ্রাফি দিবস সকলকে শুভেচ্ছা : মাহমুদ হাসান কচি কেউ এসেছেন স্ত্রীর চিকিৎসায়, কেউ বাঁচার আশায়—সবার পাশে ‘মানবিক ডিসি’ জাহিদ নারায়ণগঞ্জে সাপ্তাহিক গণশুনানিতে সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তির নির্দেশ ডিসির সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ গুণী সাংবাদিক সম্মাননা স্মারক পেলেন এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ আড়াইহাজারে স্কাউটিং বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন কোর্স অনুষ্ঠিত টেকসই উন্নয়নের জন্য সমতার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ২৩ তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কাভার করবেন ‘নিউজ টু নারায়ণগঞ্জ’ সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল ময়লার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ মিশনপাড়াবাসী, তীব্র জনদুর্ভোগ

ওয়াসিমের পরিবারসহ জুলাই শহীদদের স্বজনদের কথা শুনলেন চট্টগ্রামের ডিসি জাহিদ

বিদ্যুৎ টাইমস ডেস্ক / ২৯ Time View
Update : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

কেউ হারিয়েছেন স্বামী, কেউ সন্তান, কেউবা ভাই। কোনো কোনো পরিবার হারিয়েছে তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে স্বজন হারানো এসব পরিবারের অনেকে এখন আর্থিক সংকট, নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের দুঃখ-দুর্দশা, অভাব-অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথা শুনেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। জেলা প্রশাসক প্রতিটি পরিবারের সদস্যের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন। তাঁদের সংসার কীভাবে চলছে, সন্তানদের পড়াশোনা কেমন হচ্ছে এবং পরিবারের সদস্যরা কোনো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন কি না—এসব বিষয়ে জানতে চান তিনি। কোনো সমস্যা হলে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেন।
দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া আয়োজনটি শেষ হয় বেলা আড়াইটায়। এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ পরিবারের সদস্যদের উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সবাই পৌঁছাতে পারলেও শহীদ ওয়াসিম আকরামের পরিবারের সদস্য আসতে কিছুটা দেরি হয়। চট্টগ্রামের প্রথম এবং দেশের দ্বিতীয় জুলাই শহীদ হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামের বোন সাবরিনা ইয়াসমিন সোমা এসেছিলেন। তিনি নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর পৌঁছান। ততক্ষণে মূল আয়োজন শেষ হয়ে গিয়েছিল।
তবে জেলা প্রশাসক তাঁর কার্যালয় ত্যাগ করেননি। তিনি ওয়াসিমের পরিবারের সদস্যের জন্য নিজ কার্যালয়ে অপেক্ষা করেন। সাবরিনা ইয়াসমিন পৌঁছালে তাঁকে কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জেলা প্রশাসক হাসিমুখে তাঁকে স্বাগত জানান এবং পরিবারের সদস্যদের সার্বিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
সাবরিনা ইয়াসমিন সোমা বলেন, “আমি অনুষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে পৌঁছেছিলাম। কিন্তু ডিসি স্যার আমার জন্য অপেক্ষা করেছেন। পরে তাঁর কার্যালয়ে গেলে তিনি হাসিমুখে আমার কথা শুনেছেন। আমাদের পরিবারের সবার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।”
জেলা প্রশাসকের এই অপেক্ষা ও আন্তরিক আচরণ তাঁকে আবেগাপ্লুত করেছে বলে জানান সাবরিনা।

সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ঈদগাহ বউবাজার এলাকার শহীদ আলমের স্ত্রী নয়ন বেগম। জেলা প্রশাসক তাঁর সংসারের বর্তমান অবস্থা এবং সন্তানদের বিষয়ে জানতে চান। পরিবারের কোনো সমস্যা কিংবা বিশেষ প্রয়োজন আছে কি না, তা-ও জানতে চান তিনি।
ঈদগাহ ঝরনাপাড়া এলাকার শহীদ ইউসুফের স্ত্রী সাজেদা আক্তারের কাছেও সংসারের বর্তমান অবস্থা জানতে চান জেলা প্রশাসক। স্বামীকে হারানোর পর তিনি কীভাবে সংসার চালাচ্ছেন, সন্তানদের পড়াশোনা ও জীবনযাপন কেমন চলছে এবং পরিবারটি কোনো সংকটে রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে কথা বলেন তাঁরা।
সাজেদা আক্তার বলেন, “ডিসি স্যার জানতে চেয়েছেন আমরা কেমন আছি, সন্তানদের অবস্থা কেমন এবং আমাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না। কোনো সমস্যায় পড়লে তাঁর কাছে যেতে বলেছেন। আমাদের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন।”

লোহাগাড়ার আমিরাবাদ এলাকার শহীদ ইশমামুল হকের ভাই মুহিবুল হক জেলা প্রশাসকের কাছে পরিবারের নিরাপত্তাহীনতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তাঁরা কোনো সংকোচ ছাড়াই জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন।
মুহিবুল হক বলেন, “শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে আমরা প্রাণ খুলে ডিসি স্যারের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি। নিরাপত্তাহীনতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং সেগুলো সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।”
চকবাজার-বাকলিয়া এলাকার শহীদ শহীদুল ইসলামের স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগমও পরিবারের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেন।
হোসনেয়ারা বেগম বলেন, “ডিসি স্যার আমাদের সব দুঃখ-দুর্দশার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। যেকোনো বিপদে আমাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।”
সাক্ষাতে আরও উপস্থিত ছিলেন শহীদ ওমর বিন নুরুল আবছারের মা রুবি আক্তার, শহীদ মাহামদুর রহমান সৈকতের চাচা আমজাদ হোসেন, শহীদ জামালের স্ত্রী তসলিমা বেগম এবং শহীদ মাহিনের মা রহিমা। তাঁরা পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা, নিরাপত্তা, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা সংকটের কথা জেলা প্রশাসকের কাছে তুলে ধরেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রত্যেকের বক্তব্য শোনেন। শহীদ পরিবারগুলো একা নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন তাঁদের পাশে থাকবে। কোনো সমস্যা কিংবা জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পরিবারগুলোর সদস্যদের পরামর্শ দেন তিনি।
স্বজন হারানোর শূন্যতা কোনো উপহার বা সহায়তা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আন্তরিকতা এবং পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি শোকাহত পরিবারগুলোর মনে কিছুটা হলেও সাহস জোগাতে পারে। শহীদ পরিবারগুলোর কথা দীর্ঘ সময় ধরে শোনা এবং দেরিতে পৌঁছানো ওয়াসিম আকরামের বোনের জন্য অপেক্ষা করার মধ্য দিয়ে সেই সহমর্মিতারই প্রকাশ ঘটিয়েছেন সারাদেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা