• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন
Headline
দক্ষিণ আফ্রিকার অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ আনার আশ্বাস ইউএনওর নানা আয়োজনে নারায়ণগঞ্জে উদযাপিত হলো ‘নিউজ টোয়েন্টিফোর’-এর ১১ বছরে পদার্পণ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠান বিএম ইউনিয়ন স্কুলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাসিকের মশক নিধন হ্যান্ড স্পে ওষুধ দেওয়া হয় রূপগঞ্জে বদলি ও অবসরজনিত বিদায়ী কর্মকর্তাদের সংবর্ধনা নারায়নগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সাথে ফতুল্লা রিপোর্টার্স ক্লাবের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতা ছাড়া শুধু চিকিৎসাসেবা দিয়ে সুস্থ সমাজ গড়া সম্ভব নয় : ডিসি জাহিদ ঢাবির দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী পলিনের পাশে দাঁড়ালেন মানবিক ডিসি মো: রায়হান কবির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) নবনিযুক্ত চিফ অব মিশনের সাক্ষাৎ নারায়ণগঞ্জে বর্ণাঢ্য র‍্যালির মধ্য দিয়ে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা দিলেন ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভী

মানবাধিকার সংগঠনের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সংস্কারের দাবি সেহলী পারভীনের

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ / ১৩৪ Time View
Update : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নিবন্ধন ও অনুমোদন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং বিশেষজ্ঞনির্ভর করার দাবি জানিয়েছেন জনপ্রিয় মানবাধিকার নেতা সেহলী পারভীন। তিনি মনে করেন, মানবাধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর নিবন্ধন প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যবস্থার পাশাপাশি মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা জরুরি।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে সেহলী পারভীন বলেন, “বর্তমানে কোনো মানবাধিকার সংস্থা বা সংগঠন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর তদন্ত ও ইতিবাচক ছাড়পত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, মানবাধিকার বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের মতামত ছাড়া একটি সংগঠনের গঠনতন্ত্র, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং কার্যক্রমের সঙ্গে মানবাধিকারের মৌলিক নীতিমালার সামঞ্জস্য কতটা রয়েছে, তা নির্ণয় করা কতটা সম্ভব?”
তিনি বলেন, “যদি তদন্ত ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় মানবাধিকার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ না থাকেন, তাহলে গঠনতন্ত্রে মানবাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো ধারা বা উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা যথাযথভাবে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে কিছু সংগঠন মানবাধিকারের নাম ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার সুযোগ পায়।”
সেহলী পারভীনের অভিযোগ, দেশে কিছু সংগঠন মানবাধিকারের ব্যানার ব্যবহার করলেও তাদের কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত মানবাধিকার চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব সংগঠনের কিছু কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা ছড়িয়ে দেয় এবং মানবাধিকার আন্দোলনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।
তিনি আরও বলেন, “মানবাধিকার কোনো ব্যবসা নয়, কোনো রাজনৈতিক হাতিয়ারও নয়। এটি মানুষের মর্যাদা, ন্যায়বিচার, সমতা এবং মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষার একটি দায়িত্বশীল সামাজিক অঙ্গীকার। তাই মানবাধিকার সংগঠন পরিচালনার জন্য প্রয়োজন যোগ্যতা, জবাবদিহিতা ও নৈতিক দায়বদ্ধতা।”
নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সংস্কারের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, “সরকার চাইলে মানবাধিকার আইনবিদ, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও অভিজ্ঞ মানবাধিকার কর্মীদের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ পর্যালোচনা কমিটি গঠন করতে পারে। এই কমিটি নিবন্ধনের আবেদনকারী সংগঠনগুলোর গঠনতন্ত্র, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম মূল্যায়ন করে সুপারিশ প্রদান করতে পারে।”
তিনি বলেন, “শুধু নিবন্ধন প্রদান করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। নিবন্ধিত সংগঠনগুলো বাস্তবে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তারা মানবাধিকারের নীতিমালা অনুসরণ করছে কি না, সে বিষয়েও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রয়োজন।”
সেহলী পারভীন আরও বলেন, “মানবাধিকারের নামে বিভ্রান্তি ছড়ানো বা ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের প্রবণতা রোধ করতে না পারলে প্রকৃত মানবাধিকার সংগঠনগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই নিবন্ধন ও তদারকি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা সময়ের দাবি।”
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে ভাববে এবং এমন একটি কাঠামো তৈরি করবে, যেখানে প্রকৃত মানবাধিকার চর্চাকারীরা উৎসাহিত হবে এবং মানবাধিকারের নামে অপতৎপরতার সুযোগ কমে আসবে।”
মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, দেশে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ ও জনমুখী করতে নিবন্ধন, তদারকি এবং জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে আধুনিক ও বিশেষজ্ঞভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এতে মানবাধিকার সুরক্ষা ও জনআস্থা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা