• বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন
Headline
বি এম ইউনিয়ন স্কুল এন্ড কলেজে নবীন বরণ ও এইচএসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া মাহফিল মোহনপুর ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করতে চান চেয়ারম্যান প্রত্যাশী‌ আরিফ উল্লাহ মুন্সী ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের প্রেস ব্রিফিংয়ে মেধাবী জাতি গঠনে শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি : ডিসি ফরিদা খানম হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে : জিয়াউর রহমান জিয়া অসুস্থ গিনেস রেকর্ডধারী “ফুটবল ম্যান” মাসুদ রানাকে মানবিক সহায়তা দিয়ে পাশে দাঁড়ালেন ডিসি মো:রায়হান কবির বায়ু দূষণ রোধে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান: বন্দরে ২ ইটভাটাকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা পানি সংকট মোকাবেলায় এশিয়ার সকল দেশকে এগিয়ে আসার আহবান স্পীকারের জেলা রোভারের বার্ষিক কাউন্সিল সভায় “স্কাউটিং শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি চরিত্র গঠনের পাঠশালা:ডিসি মো: রায়হান কবির এখনই সাংবাদিক পেটাচ্ছে, ক্ষমতায় গেলে খুন করবে : শান্তা ফারজানা অসহায়-দুঃস্থ মানুষ সহ ন্যায়ের পক্ষে পাশে দাঁড়াতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা দিলেন মানবাধিকার নেতা মফিজুর রহমান সোহেল

ডিসি জাহিদের দেওয়া হুইলচেয়ারে বদলে গেল প্রতিবন্ধী শওকতের জীবন

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ / ৭৫ Time View
Update : রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে নতুন মোটরচালিত হুইলচেয়ারে বসে ছিলেন ২৮ বছর বয়সী শওকত হোসেন। পাশে দাঁড়িয়ে মা সানু বেগমের চোখে স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতার ছাপ। দীর্ঘদিন পর তাঁর মনে হলো, ছেলেটা এবার নিজের মতো চলতে পারবে।

বন্দর থানার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শওকত জন্মের দুই বছর পর থেকেই প্যারালাইজড। জীবনের অধিকাংশ সময় কেটেছে ঘরের এক কোণে। বাবা নুর মোহাম্মদ নিরাপত্তাকর্মী। সীমিত আয়ে চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যয় পরিবারটিকে বিপর্যস্ত করে তোলে।

সানু বেগম জানান, একটি হুইলচেয়ারের জন্য তিনি অনেকের দ্বারে গেছেন। আশ্বাস মিললেও সহায়তা পাননি। শেষ ভরসা হিসেবে গত বুধবার তিনি যান সারা বাংলাদেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে।

“আমি মোটরের হুইলচেয়ার চাইতেও পারিনি। শুধু বলেছিলাম, একটা হুইলচেয়ার হলে ছেলেটা একটু বসতে পারত। স্যার ধৈর্য ধরে শুনেছেন,” বলেন সানু বেগম।

জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। শনিবার জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে শওকতের হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন মোটরচালিত হুইলচেয়ার। পাশাপাশি ওষুধ ও পুষ্টিকর খাবার কেনার জন্য নগদ আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়।

“বৃষ্টির সময় ঘরে পানি পড়ে। আমার পঙ্গু ছেলেটা ভিজে থাকত। এখন অন্তত হুইলচেয়ার নিয়ে একটু বাইরে যেতে পারবে,” বলেন সানু বেগম।

সহায়তা প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “সমাজের অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। জেলা প্রশাসন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।”

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের লাল ভবনের সামনে সেদিন কোনো বড় রাষ্ট্রীয় ঘোষণা হয়নি। কিন্তু এক অসহায় পরিবারের জন্য সেটি ছিল জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া বিকেল। কারণ, কখনো কখনো একটি হুইলচেয়ার শুধু চলাচলের মাধ্যম নয়—এটি হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার নতুন সাহস।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা