র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন, “এই অভিযান শুধু মাসদাইরের জন্য নয়। এই অভিযান নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি সুস্পষ্ট বার্তা। যারা কিশোর গ্যাং কালচার লালন করছে অথবা মাদকের কারবারে যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন, তাদের বলতে চাই— এখনই অন্ধকার পথ থেকে সরে আসুন। র্যাবের কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা এখন থেকে চলমান থাকবে। অপরাধীরা কোনো রেহাই পাবে না।”
বুধবার, ৬ মে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীনগরে র্যাব-১১ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, “আমরা অপরাধীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনবো। আমাদের গতকাল মধ্যরাত পর্যন্ত অভিযান চলেছে। আজ গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।”
র্যাব অধিনায়ক জানান, “নারায়ণগঞ্জ শহরের মাদক স্পটগুলোতে আমরা বিগত কয়েকদিন যাবৎ অভিযান পরিচালনা করে আসছিলাম। আপনারা জানেন ফতুল্লার মাসদাইর এলাকা কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসায়ী ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। এগুলো নিয়ে অনেক নিউজ হয়েছে।”
গত ৫ মে দুপুরে মাসদাইরে র্যাবের ওপর হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গতকাল দুপুরে আমাদের একটি গোয়েন্দা দল সেখানে মাদক স্পটগুলো শনাক্ত করার জন্য যায়। তারা তাদের কার্যক্রম পরিচালনার সময় তাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালানো হয়। এসময় আমাদের তিনজন সদস্য আহত হয়।”
“র্যাবের সদস্যরা এ ঘটনার পরেও বিচলিত হয়নি। তারা মাদকের স্পটগুলো শনাক্ত করেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাতে আমাদের একটি দল মাসদাইরের মাদক স্পটগুলোতে অভিযান পরিচালনা করে মাদক, কিশোর গ্যাংসহ অন্যান্য অপরাধে সংশ্লিষ্ট ১৩ জনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি।”
অভিযানে ছয় রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দশটি চাকু, সাতটি চায়নিজ কুড়াল, দুটি রাম দা, চাপাতি ও স্টিলের অনেকগুলো লাঠি উদ্ধার করা হয়।
লে. কর্নেল সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “মাদক ব্যবসায়ীরা আগাম বার্তা পাওয়ার জন্য সিসি টিভি ক্যামেরা ব্যবহার করে, ড্রোন ব্যবহার করে। একটি ড্রোন, ১১ লক্ষ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা, টাকা গোনার মেশিন, ওয়েট মেশিন, ল্যাপটপসহ অন্যান্য সরঞ্জাম আমরা উদ্ধার করি। এসময় ২৩৬ কেজি গাঁজা ও ১১ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।”