বাজেটে ২৫ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি ও পূর্ণাঙ্গ রেশনিংয়ের দাবি: নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক জাগরণ মঞ্চের
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিতকরণ, জীবনমান উন্নয়ন এবং ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (০৮ মে) বিকেলে শহরের চাষাঢ়া বালুর মাঠ সংলগ্ন ‘পিজ্জা ডি ইতালি’ হল রুমে শ্রমিক জাগরণ মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত
বাংলাদেশ আইন সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান,
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট এর ব্যারিস্টার মোঃ ওবায়দুল হক,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান লিটু,
বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশন, নারায়ণগঞ্জ জেলার কার্যকরি সভাপতি শাজাহান প্রদান,
সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী মোঃ শফিকুল ইসলাম আরজু,হিউম্যান এইড ইন্টারন্যাশনাল নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ,
সিনিয়র সাংবাদিক, সম্পাদক ও প্রকাশক, নিউজ ব্যাংক ২৪ডটকম আল মামুন খাঁন, বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব নারায়ণগঞ্জ শাখার সভাপতি কাজী আনিসুল হক হীরা।
অনুষ্ঠান দেশ সঞ্চালনা করেন শ্রমিক জাগরণ মঞ্চ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট জেসমিন আক্তার
‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’ এবং ‘শ্রমিক শ্রেণীর রাষ্ট্র নির্মাণই আমাদের প্রতিশ্রুতি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক জাগরণ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম গোলক।
সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির ফলে শ্রমিকরা দিশেহারা। শ্রমিকের ঘামে সচল থাকা অর্থনীতির সুফল শ্রমিকরা পাচ্ছে না। আসন্ন বাজেটে শ্রমিকদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ও পর্যাপ্ত রেশনিং ব্যবস্থা রাখা এখন সময়ের দাবি। বক্তারা বাজার মূল্যের সাথে সংগতি রেখে অবিলম্বে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
আলোচনা সভায় শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়:
১. সকল শ্রমিকের জন্য পূর্ণাঙ্গ রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা।
২. শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা।
৩. জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মজুরি ২৫,০০০ টাকা নির্ধারণ করা।
৪. শিল্পাঞ্চল ও শ্রমিক বহুল এলাকায় সরকারি উদ্যোগে আধুনিক ‘শ্রমিক হাসপাতাল’ নির্মাণ করা।
৫. মাসের ৭ কর্মদিবসের মধ্যে বেতন নিশ্চিত করা, ৮ ঘণ্টা ডিউটি শেষে ওভারটাইম প্রদান এবং নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করা।
৬. প্রচলিত শ্রম আইনের শ্রমিকবিরোধী ধারাগুলো বাতিল করে আইএলও (ILO) কনভেনশন অনুযায়ী গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন করা।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান, ব্যারিস্টার মো. ওবায়দুল হক, অধ্যাপক ড. মাহবুব লিটু, সিনিয়র সাংবাদিক ও কবি শৈবাল আদিত্য এবং শাহজাহান প্রধান। এছাড়াও শ্রমিক জাগরণ মঞ্চের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ সভায় বক্তব্য রাখেন।
নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি আসন্ন বাজেটে শ্রমিকদের এই ন্যায্য দাবিগুলো প্রতিফলিত না হয় এবং জীবনমানের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে সাধারণ শ্রমিকদের সাথে নিয়ে রাজপথে বৃহত্তর ও দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সভা শেষে উপস্থিত শ্রমিক ও নেতৃবৃন্দ অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।