
ইতিহাসের সেরা নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়েই শান্তিপূর্ণ ভোট সম্পন্নের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল:ডিসি রায়হান কবির
এবারের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও ভোটারদের মনোভাব ছিল আনন্দমুখর ও ইতিবাচক—এমন দাবি করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: রায়হান কবির । তিনি বলেন, দুটি ব্যালটে ভোট গ্রহণ এবং ভোটারদের যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে একটু বেশি সময় লাগায় লাইনে ভোটারদের অপেক্ষার সময় দীর্ঘ হয়েছে। তবে ভোটাররা এতে বিরক্ত না হয়ে আনন্দের সঙ্গেই উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ভোটারদের দুটি ব্যালটে ভোট দিতে হয়েছে, ফলে স্বাভাবিকভাবেই একটু সময় বেশি লেগেছে। বিশেষ করে বোরকা পরিহিত নারী ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ে একটু সময় বেশী ব্যয় করতে হয়েছে। এসব কারণে লাইনে অপেক্ষার সময় দীর্ঘ হয়েছে।”
ভোটারদের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি যখন সরজমিনে ভোটকেন্দ্রে পরিদর্শন কালে ভোটারদের জিজ্ঞেস করেছি, তারা বলেছেন তাদের কোনো কষ্ট হচ্ছে না। বরং তারা আনন্দিত যে তারা শান্তিপূর্ণভাবে যার যেমন ইচ্ছেমতো ভোট দিতে পারছেন। তখন আমাদের মনে হয়েছে, আমাদের নির্বাচনী আয়োজন সার্থক হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো: রায়হান কবির বলেন, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ আয়োজনের লক্ষ্য নিয়েই নারায়ণগঞ্জে সকল প্রকার নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। “এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি ঘোষণা ছিল যে আমরা ইতিহাসের সেরা নির্বাচন উপহার দিতে চাই। সেই লক্ষ্যে আমরা নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করেছি, যা বাংলাদেশে ইতিপূর্বে কখনো হয়নি,” বলেন তিনি।
নির্বাচন পরিচালনায় চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে মো: রায়হান কবির বলেন, “এখানে যারা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতে এসেছেন, তারা প্রত্যেকেই একদম নতুন এমনকি আমি নিজেও। তাদের এ অঞ্চলের জল, মাটি, গাছপালা, মানুষ বা প্রকৃতির সঙ্গে কোনো পূর্বপরিচয় ছিল না। এমন একটি সম্পূর্ণ নতুন সেটআপে নির্বাচন আয়োজন করা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।তাই আমরা সবাই দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে জেলার পুরো সেটআপ তৈরি করেছি।
তিনি আরও বলেন, “তবে আমরা এটিকে শুধু চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখিনি। আমরা দেখেছি, এবারের নির্বাচন বিশ্ব দরবারে রাষ্ট্রের ইমেজের প্রশ্ন। নতুন বাংলাদেশ গড়তে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য।”
অতীতের নির্বাচনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে জেলা প্রশাসক বলেন, “নির্বাচনকে ঘিরে বারবার সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে আমরা দেশের মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখতে পারিনি। কিন্তু এবারের পরিবেশ ছিল ভিন্ন। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে আন্তরিক ছিল।”
তিনি বলেন, “আমি স্পষ্টভাবে জেলার সকল কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলাম, এবারের নির্বাচনের মূল মানদণ্ড হবে নিরপেক্ষতা। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে এই মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে হবে। কোনো ধরনের গাফিলতি বা শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না।”
তার দাবি, সংশ্লিষ্ট সবাই সেই বার্তা অনুধাবন করে দায়িত্ব পালন করেছেন, যার ফলে নির্বাচন বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য করা সম্ভব হয়েছে।
দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তাদের বিষয়ে তিনি বলেন, “নতুন ও মেধাবী কর্মকর্তাদের প্রস্তুত করা হয়েছে, প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
তবে তিনি স্বীকার করেন, “সব প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার খুব অভিজ্ঞ ছিলেন না। বাস্তবতার কারণে কিছু পরিবর্তন আনতে হয়েছে। আরও বেশি প্রশিক্ষণ দিতে পারলে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করা যেত।”
তিনি জানান, “কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে নতুন প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ দিতে হয়েছে। যাচাই-বাছাই করে, তাদের পরিচয় ও অতীত কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”
সব মিলিয়ে নির্বাচন আয়োজনকে ‘সার্থক’ বলে দাবি করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো: রায়হান কবির।
Leave a Reply