
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার চান্দ্রা এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধান অতিথি বলেন, মেধাবী হওয়ার পাশাপাশি ভালো ছাত্র হওয়াও জরুরি।
শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২৬) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চান্দ্রা ইমাম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, চান্দ্রা আব্দুল হাকিম চৌধুরী মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং সকদিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৃথক তিনটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাহবুবের রহমান। প্রতিটি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সরকারের যুগ্ম সচিব ও একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান।
সকাল ১০টায় সকদিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থী কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থী ও তাঁদের মায়েদের সংবর্ধনা এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন সুলতানা ও সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।
পরে সকাল সাড়ে ১১টায় চান্দ্রা ইমাম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠান এবং সাড়ে ১২টায় চান্দ্রা আব্দুল হাকিম চৌধুরী মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এসব অনুষ্ঠানেও জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহাদাত, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার শাহাবুদ্দিন সাবু পাটওয়ারী এবং ব্যবসায়ী সৈয়দ আলনূর প্রিন্সসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মাহবুবের রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু মেধাবী হলেই চলবে না, ভালো ছাত্রও হতে হবে।” তিনি বলেন, বর্তমানে মোবাইল ফোন একটি ‘মহামারী’র মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও মেধার বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। অন্তত পরীক্ষার আগের কয়েক মাস মোবাইল থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জীবনে সফল হতে উচ্চ নম্বরই সব নয়; বরং যা পড়া হচ্ছে তা বুঝে পড়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। “বুঝে পড়ে ৬০–৭০ নম্বর পেলেই যথেষ্ট,” বলেন তিনি। বিসিএসসহ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে স্কুলজীবনে পড়াশোনায় অবহেলার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের গড়ে তুলতে মায়েদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “মা ভালো হলে সন্তানও ভালো হবে” উল্লেখ করে তিনি সন্তানদের প্রতি আরও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান।
Leave a Reply