
সংগীত ভুবনে অনন্য এক নাম কণ্ঠশিল্পী ফারজানা রিতু
মনোমুগ্ধকর ও সুরেলা কণ্ঠে অতি অল্প সময়ে সংগীত ভুবনে দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে হাজারো ভক্ত শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সকলের সুপরিচিত খ্যাতিমান কণ্ঠশিল্পী ফারজানা রিতু। মিষ্টভাষী সদালাপী গুণী এ শিল্পীর সাথে একান্ত আলোচনায় আমরা জানতে পারি তার সংগীত জীবনে এগিয়ে আসার গল্প এবং আগামীর স্বপ্ন ভাবনা।
পত্রিকার সকল পাঠক ও কণ্ঠশিল্পী ফারজানা রিতু’র অগণিত ভক্ত ও শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো।
ফারজানা রিতু’র পৈতৃকভিটা কুমিল্লা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। তার জন্ম নারায়ণগঞ্জ জেলা শহরে। গুণী এ শিল্পী স্থায়ী ভাবে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করেন । তাঁর পিতা মৃত আলী আহম্মেদ ও মাতা আলী মমতাজ। পরিবারে দু’ভাই ও দু’বোনের মধ্যে সবার ছোট সন্তান হলেন কণ্ঠশিল্পী ফারজানা রিতু। তাঁর পিতা আলী আহম্মেদ অবসর সময়ে ঘরোয়াভাবে গান গেয়ে সবাইকে আনন্দে মাতিয়ে তুলতেন। পিতার সাথে মা আলী মমতাজ ও কণ্ঠ মেলাতেন। পিতা এবং মাতার সংগীতের প্রতি এ ভালোবাসা থেকেই শিশু বয়সে ফারজানা রিতু’র সংগীতের প্রতি ভালোলাগা ও ভালোবাসার জন্ম হয়। হৃদয় মাঝে স্বপ্ন জাগে শিল্পী হবার। ফারজানা রিতু’র সংগীতের প্রতি উৎসাহ অনুপ্রেরণা দেখে পিতা কন্যাকে সংগীতচর্চার জন্য সংগীত শিক্ষক আমিনুল হক মনার নিকট নিয়ে যান। এখান থেকেই শিল্পীর সংগীতের হাতেখড়ি। এরপর নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ফারজানা রিতু সংগীত বিভাগে ভর্তি হন। ভর্তি হয়ে সংগীতের উপর দীক্ষা নিয়ে নিজেকে তৈরি করতে থাকেন একজন সংগীত শিল্পী হিসেবে। শিল্পকলা একাডেমি’র সংগীত কোর্স সমাপ্ত করে সংগীতে আরো দক্ষতা অর্জনে তামিল নেন নারায়ণগঞ্জের খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী প্রয়াত শিল্পী খোকন, বাচ্চু, হামিদা ও মায়া’র নিকট। পরবর্তীতে ধারাবাহিক ভাবে সংগীতের উপর শিক্ষা গ্রহণ করেন খ্যাতিমান কণ্ঠশিল্পী জি. এম. রহমান রনি, আমজাদ হাসান এর কাছ থেকে। এ সকল শিক্ষাগুরুর নিকট থেকে সংগীতে শিক্ষা নিলেও ক্লাসিক্যাল সংগীতে দীক্ষা নেন কালীপদ মোদক, এস.এম. বাবর এর নিকট থেকে।
ফারজানা রিতু সব ধরনের গানের চর্চা করলেও সকলের নিকট ক্লাসিক্যাল শিল্পী হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করেন। স্কুল জীবনে তার প্রথম গাননিয়ে স্টেজ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ। সেই অনুষ্ঠানে ক্লাসিক্যাল গান গেয়ে উপস্থিত দর্শকদের মন জয় করে নেন ফারজানা রিতু। স্কুল জীবন থেকেই নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্টেজ প্রোগ্রামে গান গেয়ে নিজের সুখ্যাতি অর্জন করেন। এ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জেলা শহরে গানের আমন্ত্রণ পেয়ে সানন্দে গ্রহণ করে ছুটে চলে গিয়েছেন গানভক্তদের ভালোবাসার টানে প্রতিটি জেলায়। জেলাগুলোতে গিয়ে বড় বড় স্টেজ প্রোগ্রামে গান গেয়ে দর্শকদের আনন্দে মাতিয়ে তুলেছেন। সম্প্রতি তরুণ এ সংগীত শিল্পী নিজ দক্ষতা ও যোগ্যতায় বাংলাদেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে গান গেয়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি মালদ্বীপ ও সিঙ্গাপুরে আমন্ত্রণ পেয়ে প্রবাসে গিয়ে গান পরিবেশন করে এসেছেন।
ফারাজানা রিতু’র অনেক গান টিভি চ্যানেলে লাইভ ও শো প্রোগ্রাম প্রচার হয়েছে। এর সাথে লেজার ভিশন, সিডি চয়েস, জি সিরিজ, তরঙ্গ মিউজিক সেন্টারে তার রেকডিং করা গান প্রচারে রয়েছে।
এ পর্যন্ত গুণী এ শিল্পী গান গাওয়ার পাশাপাশি নিজে অনেক গানও লিখেছেন। তার লেখা গানগুলো সময় হলে দর্শকদের সামনে তুলে ধরবেন বলে জানান।
রংবাজ নামে তাঁর একটি নিজস্ব মিউজিক ব্যান্ড রয়েছে । তার এ ব্যান্ডের নাম অনেকের কাছে পরিচিতি।
গুণী এ শিল্পী বলেন, তাঁর একটিই চাওয়া, দেশ বিদেশে একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে নিজের সুপরিচিতি তুলে ধরা এবং সংগীত ভুবনে নিজের নাম লিপিবদ্ধ করা। এ জন্য তাঁর সকল ভক্ত,শুভাকাঙ্ক্ষী ও শ্রোতাদের সাপোর্ট আশা করেন। তিনি চান সবাই তাঁর গান শুনবে এবং উৎসাহ দিবে। পরিশেষে তিনি বলেন, কোন গানকে বিকৃত করা হোক এটা কাম্য নয়। সংগীতের নিয়মনীতি মেনে গান পরিবেশন করা হোক।
Leave a Reply