
পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জটিল ভূমি সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তনে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
বৃহস্পতিবার সকালে বান্দরবান জেলার সুয়ালক আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভূমি সমস্যা বহু বছরের পুরোনো এবং এটি সমাধান করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি জানান, সরকার এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ভূমি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যাতে পাহাড়ের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার বাস্তব পরিবর্তন ঘটানো যায়।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রক্রিয়ার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, জিয়াউর রহমান পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যা সমাধান ও উন্নয়নের রূপরেখা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সমস্যা নিরসনে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সকল ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠীকে ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’-এর পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। বর্তমান সরকার সেই আদর্শকে ধারণ করে দেশে সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং ‘রংধনু সংস্কৃতি’র চর্চাকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান ও চাংলান বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের উজ্জ্বল প্রতীক। এসব উৎসব শুধু পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের আনন্দের উপলক্ষ নয়, বরং দেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিমন্ত্রী এই বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মীর হেলাল উদ্দীন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সম্প্রদায় ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহাবস্থান রয়েছে, তা প্রমাণ করে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের দিক থেকে বাংলাদেশ এ অঞ্চলের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি ধারণ করে দেশ উন্নয়ন ও সম্প্রীতির পথে আরও এগিয়ে যাবে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী সুয়ালক আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। পরে তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ করেন এবং তাদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান ৩০০ নম্বর আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ সালেহ্ আহমদ, জেলা প্রশাসক মোঃ সানিউল ফেরদৌস, পুলিশ সুপার মোঃ আবদুর রহমান এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি। এছাড়াও বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply