1. admin@biddyuttimes.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন

গৃহবধূ মীম হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার ও নাতিনদের উদ্ধারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ জুন, ২০২৫
  • ৩৪৬ বার পঠিত

গৃহবধূ মীম হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার ও নাতিনদের উদ্ধারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে যৌতুকের জন্য গৃহবধূ আয়শা আক্তার মীম হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতার ও নিহত মীমের দুই নাবালক সন্তানদের উদ্ধারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন নিহতের স্বজনরা।

বুধবার (১৮ জুন) দুপুরে শহরের একটি রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় নিহত মীমের বাবা আবুল বাশার বলেন, দাবি করা যৌতুক না দেয়ায় স্বামী মুকুল, ননদ রাজিয়া, শ্বশুড় শহিদুল ইসলাম ও শাশুড়ি মমতাজ বেগম মিলে মীমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আমার দুই নাতনি তারা তাদের মায়ের হত্যা দেখে ফেলায় তাদেরকে নিয়ে উদাও হয়ে যায়। আমরা ধারণা করছি আমার দুই নাতনিকেও সে মেরে ফেলবে আমরা চাই দ্রুত দুই নাতনিকে উদ্ধার করতে। এ ঘটনায় থানায় মামলা না নেয়ায় আদালতে কোর্ট পিটিশন মামলা করা হয়।যার নং ৩০৩/২০২৫।

তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত আসামিদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মীমের বাবা আবুল বাশার। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনা ধামাচাপা দিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অর্থের প্রভাব খাঁটিয়ে ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাল্টে ফেলার চেষ্টা করছে। এবং কারো কাছে গেলে বা জানালে আমাদের কেউ প্রাণ মেরে ফেলা হুমকি দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন স্থান থেকে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকদের সুবিধার্থে হুবহু তুলে ধরা হলো। প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা
আসসালামু আলাইকুম,

আমি আবুল বাশার অত্যন্ত দুঃখের মাঝে আপনাদের জানাচ্ছি যে, আমার মেয়ে আয়শা আক্তার মীম তাকে সিদ্ধিরগঞ্জের সুমিল পাড়া এলাকার শহিদুল ইসলাম এর ছেলে মুকুলের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করি। কিন্তু কিছু বছর পরে আমার মেয়েকে নানান ভাবে অত্যাচার নির্যাতন করতে থাকে এক পর্যায়ে তারা আমার মেয়ের কাছে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করে এবং এলোপাথারিভাবে মারধর করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। আমার মেয়েকে হত্যা করে তারা নিজেরাই ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সেখানে যেখানকার ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। হাসপাতাল থেকে সিএনজি করে আমার মেয়েকে বাসায় নিয়ে আসে এবং আমাকে ফোন করে। খবর পেয়ে আমি সাথে সাথে সেখানে উপস্থিত হলে আমার মেয়ের মৃত্যুর ঘটনা জানতে চাইলে তারা আমাকে জানায় বাথরুমের ভেন্টিলেটারের সাথে আমার মেয়ে ওড়না দিয়ে ফাস লাগিয়ে হত্যা করে এ হত্যার ঘটনাটি আড়াল করার জন্য মেয়ের শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ ও আমার মেয়ের জামাই পরিকল্পিতভাবে আমার মেয়ের গলায় ফাঁস লাগাইয়া আত্মহত্যার অপপ্রচার করে। আমি তাদের কথা বিশ্বাস করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করি। পরবর্তীতে আমার মেয়ের দাফন কাজ শেষে আমার নাতিন মদিনা (৫) ও মাক্কা (৩) এবং এলাকাবাসীর মাধ্যমে জানতে পারি আমার মেয়ে আয়েশা আক্তার মিমকে যৌতুকের দাবিতে বেধর মারধর করে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে। আমার দুই নাতিন আমাকে তার মাকে যে তার বাবা হত্যা করেছে সে বিষয়ে আমাকে বলার কারণে আমার দুই নাতিনকে গুম করে রেখেছে এবং তাদেরও কোন খোঁজ মিলছে না। এবং বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদেরকে হুমকিদামকি দেওয়া হচ্ছে যদি এ বিষয়ে কারোকে কারো কাছে যাই তাহলে আমাদেরও প্রাণের মেরে ফেলা হবে। আমি আপনাদের মাধ্যমে এসপি মহোদয় ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি আমার দুই নাতিনকে আপনারা বাঁচান না হয় ওরা আমার নাতিনদের মেরে ফেলবে এবং আমার মেয়ে হত্যাকারীরা যাতে দেশের বাইরে না যেতে পারে এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মে সকালে সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী এলাকায় স্বামীর বাড়ি থেকে মীমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় নিহত মীমের স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদসহ চারজনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত মীমের বাবা আবুল বাশার।

Please Share This Post in Your Social Media


Deprecated: File Theme without comments.php is deprecated since version 3.0.0 with no alternative available. Please include a comments.php template in your theme. in /home/biddyutt/public_html/wp-includes/functions.php on line 6121

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2024
Design By Raytahost