
নেতৃত্ব, সফলতা ও মানবতার এক বিরল সমন্বয় হলেন এম.এস. বিসমিল্লাহ এন.এম. ইন্টারপ্রাইজের কর্ণধার নাদিরা আক্তার নিরা। তিনি একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী, উদ্যোক্তা ও মানবিক চিন্তাধারায় বলীয়ান এক নারী, যিনি নীরবে-নিভৃতে অসংখ্য গরিব, দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন বছরের পর বছর।
যেখানে অধিকাংশ সমাজসেবামূলক কার্যক্রম থাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, সেখানে নিরা বেছে নিয়েছেন নীরবতার পথ। সংবাদমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই তিনি অসহায় মানুষের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করে চলেছেন। আশপাশের অনেকেই জানেন না, তিনি কতটা উদার আর মানবিক মননের অধিকারী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অসংখ্য উপকারভোগী, গভীর অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার হতদরিদ্র মানুষদের দিকে সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন নিরা। অনেক মেধাবী অথচ অর্থাভাবে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীর দায়িত্ব তিনি ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করেছেন। বহু পরিবারের ঘরে তিনি পৌঁছে দিয়েছেন চিকিৎসার অর্থ, খাদ্যসামগ্রী, কিংবা ঘর নির্মাণের সামর্থ্য।
নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে দিয়েছেন সেলাই মেশিন, দোকান খোলার পুঁজি কিংবা ক্ষুদ্র ঋণ, যা অনুদান হিসেবেই থেকে গেছে—ফিরত চাওয়ার কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। ঈদ, কোরবানী ও শীতে সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জন্য দিয়েছেন নতুন কাপড়, খাদ্যসামগ্রী এবং আর্থিক সহায়তা।
এমনকি করোনাকালীন সংকটে তিনি যেভাবে নিরবে সহায়তা করে গেছেন, তা ছিল বিস্ময়কর। হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন, ওষুধ এবং নগদ সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন কোনো মিডিয়া কভারেজ ছাড়াই।
‘মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় ধর্ম’ ু নিরার দর্শন। কোনো সাক্ষাৎকারে দেখা যায়নি তাকে, কোথাও শোনা যায়নি তার মুখে বড় বড় কথা। কিন্তু যাঁরা তাঁর কাছ থেকে সহায়তা পেয়েছেন, তাঁদের কণ্ঠে একটাই কথা—“উনি না থাকলে হয়তো আমরা আজ বেঁচেই থাকতে পারতাম না।”
নাদিরা আক্তার নিরা বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, যাদের সহায়তা করি তারা আমার উপর আল্লাহর একটা আমানত। আমি যা পারি, সেটা নিঃশব্দে করি। প্রচার নয়, বরং মানুষের দোয়া আমাকে সমৃদ্ধ করে।”
নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। একদিকে তিনি একজন সফল নারী উদ্যোক্তা, অন্যদিকে সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল প্রতীক। এম.এস. বিসমিল্লাহ এন.এম. ইন্টারপ্রাইজ-এর নেতৃত্বে তিনি যে প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্য অর্জন করেছেন, তা যেমন প্রশংসনীয়, তেমনি তাঁর ব্যক্তিগত মানবিক অবদানও সমাজে এক বিশেষ আলো ফেলেছে।
নারী নেতৃত্ব, মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছেন তিনি। বর্তমান প্রজন্মের উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মীদের জন্য তিনি হতে পারেন পথপ্রদর্শক।
নাদিরা আক্তার নিরার মতো মানুষ সমাজে খুব বেশি নেই। যারা আলোচনার বাইরে থেকেও সমাজের অন্ধকার প্রান্তে আলো পৌঁছে দেন, তারাই প্রকৃত সমাজহিতৈষী। তাঁর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, নিরব অনুদান ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মনোভাব আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করে। সমাজ এমন একজন নিঃস্বার্থ ব্যক্তিকে শ্রদ্ধাভরে সম্মান জানায়—আর আমরা আশাবাদী, এই মানবিক চেতনা ছড়িয়ে পড়বে আরও অনেকের মাঝে।
Leave a Reply