1. admin@biddyuttimes.com : admin :
মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩৩ অপরাহ্ন

ডিসি রায়হান কবির এর আদর, ভালবাসা, উপহার ও ঈদ সেলামি পেয়ে উচ্ছ্বসিত অনাথ এতিম শিশুরা

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৭ বার পঠিত

ঈদের দিনের সকালটা ছিল অন্যরকম। নারায়ণগঞ্জে মুসলিম নগর এতিমখানা মাদ্রাসায় ছোট্ট আঙিনায় হঠাৎ করেই জমে ওঠে এক অদ্ভুত আনন্দ উচ্ছ্বাস। কেউ হাততালি দিচ্ছে, কেউ দৌড়ে এগিয়ে আসছে, কেউবা দূর থেকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে আজ কী হচ্ছে মাদ্রাসায়।

যাদের জীবনে ঈদ মানেই নীরবতা, সীমিত আয়োজন আর অভাবের এক চাপা অনুভূতি—সেই শিশুদের জন্য এই দিনটি হয়ে উঠল একেবারেই ব্যতিক্রম। কারণ, সেদিন সেখানে শুধু একজন কর্মকর্তা যাননি—গিয়েছিলেন একজন মানবতার কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ মানবিক ডিসি মোঃ রায়হান কবির।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির ঈদের দিনে তার পরিবারকে একান্ত সময় না দিয়ে এসে দাঁড়িয়েছিলেন এই শত শত এতিম শিশুদের মাঝখানে—যাদের অনেকেরই নেই বাবা-মায়ের স্নেহময় স্পর্শ।তারপরেও আজ জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে টেবিলের ওপর সাজানো বিভিন্ন ধরনের খাবার।
সবকিছু যেন অপেক্ষা করছিল ছোট ছোট হাতগুলোর জন্য।তারা এইগুলি দেখে অনেক আনন্দিত হয় শিশু বাচ্চারা। এরপর যখন জেলা প্রশাসক নিজ হাতে শিশুদের মাঝে ঈদের সালামি তুলে দিতে শুরু করলেন, তখন দৃশ্যটি হয়ে উঠল একেবারেই আবেগঘন। একটি শিশু দু’হাত দরে টাকা নিয়ে বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে—হয়তো এই প্রথম সে নিজের নামে ঈদের সালামি পেল। আরেকজন নতুন জামা বুকে জড়িয়ে ধরে আছে, যেন এটি তার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। হাসির শব্দ, হাততালি আর আনন্দের উচ্ছ্বাসে মুহূর্তেই বদলে গেল পুরো পরিবেশ।
তারা কেউ জানে না তাদের শিকড় কোথায়।
এই শিশুদের কাছে ঈদ মানে সাধারণত অন্যদের আনন্দ দূর থেকে দেখা। কিন্তু এবার সেই দূরত্ব ভেঙে দিল একটি উদ্যোগ—একজন মানবতার ফেরিওয়ালা মানবিক জেলা প্রশাসকের আন্তরিকতায়। জেলা প্রশাসকের এই সফরে কোন আনুষ্ঠানিকতা ছিল না।

তিনি শিশুদের পাশে বসেছেন, কথা বলেছেন, তাদের হাসির সঙ্গে নিজেও হেসেছেন। খাবারের মান পরীক্ষা করেছেন, পরিবেশ দেখেছেন—কিন্তু তার চেয়েও বেশি কিছু করেছেন—তিনি চেষ্টা করেছেন তাদের অনুভব করতে। কারণ, এই শিশুদের জন্য সবচেয়ে বড় অভাব হয়তো খাবার বা পোশাক নয়—বরং একটি আপন মানুষের উপস্থিতি। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বলপন “আমি বহু বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত। আজ ঈদের দিনে ডিসি মহোদয় যেভাবে পুরো ডিসি কার্যালয়ের প্রায় সব কর্মকর্তাকে এখানে উপস্থিত করেছেন, তা আমাকে দারুণভাবে আবেগাপ্লুত করেছে। এত ব্যস্ত সময়ের মাঝেও তাঁরা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন—এটি আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমাদের এই শিশুরা এতে অনুপ্রাণিত হবে। তাঁরা প্রত্যেকটি শিশুকে ঈদ মোবারক জানিয়েছেন এবং ঈদ সালামি দিয়েছেন, যা তাদের জন্য এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা।”

এরা এই ধরনের পারিবারিক পরিবেশ খুব কমই পায়। এভাবে কেউ কখনো তাদের ঈদ উপলক্ষে ভালোবাসা দেয়নি। এটি যেমন আমার কাছে আবেগাপ্লুত একটি বিষয়, তেমনি তাদের কাছেও একটি নতুন অভিজ্ঞতা।”
পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসকের কণ্ঠে ছিল এক গভীর উপলব্ধি। তিনি বলেন, “আমরা আজ ঈদের দিনে অনেক আনন্দ পেয়েছি। ঈদ মানেই সবার জন্য আনন্দ। আজ আমরা সবাইকে নিয়ে এখানে এসেছি, আর সবার খুশি দেখে আমরা খুবই আনন্দিত হয়েছি। ঈদ মানে হাসি, ঈদ মানে খুশি। আমরা সবার মুখে হাসি দেখতে চাই।”

উপলব্ধি প্রতিষ্ঠানে তার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “ঈদ উৎসব উদ্‌যাপনের জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করে থাকি।
আজ যখন আমি এখানে এলাম এবং বাচ্চারা আমাকে ওদের বিভিন্ন অনুভূতির কথা শুনিয়েছে, তখন তাদের আনন্দ দেখে আমরাও গভীরভাবে আনন্দিত হয়েছি। আজ মনে হলো—ঈদ সত্যিই একটি আনন্দের উৎসব, আর সেই আনন্দ আমরা এখানে এসে সরাসরি অনুভব করতে পেরেছি। আমাদের পুরো দিনটি অত্যন্ত সুন্দর কেটেছে, এবং আজ আমরা যেন ঈদের পূর্ণ আনন্দটুকু অর্জন করতে পেরেছি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের প্রত্যাশা, আগামী দিনগুলোতে এই শিশুরা আরও সুন্দরভাবে ঈদ উদ্‌যাপন করবে। আমরা চাই তাদের সবার মুখে হাসি ফুটুক। কারণ ঈদের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। আজ আমরা সেই উদ্দেশ্য নিয়েই এখানে এসেছিলাম—এই শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে। তারা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের গ্রহণ করেছে এবং অনেক আনন্দ পেয়েছে। এ কারণেই আজকের এই ঈদের আয়োজনটি সার্থক হয়েছে।”

এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই শিশুদের দেখাশোনা করছেন, তাদের প্রতি আমাদের গভীর কৃতজ্ঞতা রইল।”
সবচেয়ে অবহেলিত এই শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির প্রমাণ করেছেন—প্রশাসন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ নয়, এটি হতে পারে মানবিকতার এক শক্তিশালী হাতিয়ার। ঈদের আনন্দ যখন ভাগ হয়ে যায়, তখনই তা পূর্ণতা পায়। আর সেই পূর্ণতার গল্পই লিখে গেল নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক।

Please Share This Post in Your Social Media


Deprecated: File Theme without comments.php is deprecated since version 3.0.0 with no alternative available. Please include a comments.php template in your theme. in /home/biddyutt/public_html/wp-includes/functions.php on line 6121

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2024
Design By Raytahost