• মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১২ অপরাহ্ন
Headline
নারায়ণগঞ্জে অসহায় পরিবারের পাশে ইউএনও এস এম ফয়েজউদ্দিন, খাদ্য সামগ্রী প্রদান ফতুল্লা পাইলটে স্কুলে জিপিএ-৫ পাওয়া ৪৪ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা বিবি রোডে হকারদের শেষ সতর্কবার্তা:যানজট ও হকারমুক্ত করতে সমন্বিত কঠোর অভিযান শুরু হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ সাইলো পরিদর্শনে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম “শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত” প্রতিপাদ্যে নারায়ণগঞ্জে শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে ভার্চুয়ালি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত এসপি অফিস থেকে চানমারী পর্যন্ত লিংক রোডে ফের পরিচ্ছন্নতা অভিযান: ময়লা ফেললে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ডিসির নারায়ণগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৫৪ জন গ্রেফতার নারায়ণগঞ্জে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তায় ২২ ট্রাফিক ভলান্টিয়ারের কার্যক্রম উদ্বোধন দীর্ঘ ৮ বছর পর নারায়ণগঞ্জ সদরে ৬ষ্ঠ কাব ক্যাম্পুরীর মহা আয়োজন: ৭০ স্কুলের ৫৫০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নারায়ণগঞ্জে পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত,এই পদোন্নতি আপনাদের সততা, শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মূল্যায়ন : এসপি

দেশ বদলাতে নিজের অবদানও দেখতে হবে: ডিসি জাহিদ

বিদ্যুৎ টাইমস ডেস্ক / ২৩ Time View
Update : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬

দেশ ও সমাজের পরিবর্তন চাইলে অন্যকে দোষারোপ না করে প্রত্যেককে নিজের ভূমিকা ও অবদান নিয়ে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি ভোক্তার পরিবর্তিত চাহিদা বুঝে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহিদুল বলেন, ‘আমরা সবাই চাই দেশটা সুন্দর ও উন্নত হোক। কিন্তু আমি নিজেকে প্রশ্ন করি—দেশকে উন্নত করার জন্য আমি কী করছি? আমার অবদান কী? দেশ ও সমাজের পরিবর্তনে আপনার অবদান কী—এই প্রশ্নটি আপনাদের কাছে রেখে যেতে চাই।’

বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ক্রেতার চাহিদা বুঝে আগাম প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ক্রেতাকে বুঝতে না পারি, সেই গবেষণা যদি আমাদের না থাকে, তাহলে বাজারে টিকে থাকতে পারব না।’

বিশ্বের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সফল প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতের ভোক্তার রুচি ও চাহিদা নিয়ে আগাম গবেষণা করে। তরুণ প্রজন্মের পছন্দ কীভাবে বদলাচ্ছে, ভবিষ্যতে তারা কী চাইবে—এসব বিবেচনায় নিয়েই পণ্য ও বাজার পরিকল্পনা করতে হবে।

বর্তমান বিশ্বে দেশ ও বাজারগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের চিন্তাভাবনাকেও সেই পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে।’

পরিবর্তনের প্রতি অনীহাকে অগ্রগতির একটি বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, নতুন কিছু করতে গেলে সমালোচনা ও চ্যালেঞ্জ আসবে। সেই ভয়ে প্রচলিত ধারা আঁকড়ে থাকলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমাদের বড় সমস্যা হলো, আমরা পরিবর্তন পছন্দ করি না। যেভাবে চলছে, সেভাবেই ধরে রাখতে চাই। কারণ পরিবর্তন করতে গেলে সমালোচনা ও নানা চ্যালেঞ্জ আসে।’

চ্যালেঞ্জ ছাড়া বড় অর্জন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রচলিত চিন্তার বাইরে যেতে হবে। নতুন ধারণা গ্রহণ করতে হবে, বাড়াতে হবে সৃষ্টিশীলতা।

চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্যের দীর্ঘ ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে জেলা প্রশাসক বলেন, দেশের অর্থনীতিতে চট্টগ্রামের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহাসিকভাবে এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে। সে কারণে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের কাছেও মানুষের প্রত্যাশা বেশি।

তিনি বলেন, ‘মানুষ চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অনেক বেশি প্রত্যাশা করে। তাঁরা নতুন ধারণা নিয়ে আসবেন, নতুন কিছু সৃষ্টি করবেন। সৃষ্টিশীলতা আসতে হবে।’

পরিবর্তিত বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ব্যবসায়ীদের ক্রেতার চাহিদা, তরুণ প্রজন্মের রুচি ও ভবিষ্যৎ বাজার নিয়ে গবেষণার পরামর্শ দেন তিনি।

দেশ ও সমাজের পরিবর্তনে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত দায়িত্বের কথা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, সময় শুধু নিজের জন্য নয়, সমাজ ও দেশের জন্যও কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সমাজ ও দেশের পরিবর্তন চাই। কিন্তু আমি যদি দেশের জন্য না ভাবি, তাহলে সেই পরিবর্তন কীভাবে হবে?’

সমাজের সব সমস্যার জন্য শুধু প্রশাসনকে দায়ী করার মানসিকতা থেকেও বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সমাজের প্রতি আমার নিজের অবদান কী, সেদিকে আমরা তাকাই না। শুধু বলব—ডিসি সাহেব এটা করেননি, এসপি এটা করেননি—এভাবে সমাজ পরিবর্তন হবে না।’

কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একার পক্ষে সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিক—সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।

বাংলাদেশের উর্বর ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের মানুষ প্রতিকূল আবহাওয়া ও পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করে উন্নতি করেছে। সে তুলনায় বাংলাদেশ প্রাকৃতিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এই সম্ভাবনার যথাযথ ব্যবহার করতে হবে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও উন্নত দেশ রেখে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্ম দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে পরবর্তী প্রজন্ম তাদেরই দোষারোপ করবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘তারা যেন বলতে না পারে—রাষ্ট্রের যা কিছু ছিল, আগের প্রজন্ম সব ভোগ করে গেছে; আমাদের জন্য শুধু উচ্ছিষ্ট রেখে গেছে। এমন একটি রাষ্ট্র রেখে গেছে, যেখানে হানাহানি, রাহাজানি ও নিরাপত্তাহীনতা আছে; বিশুদ্ধ খাবার ও পানি নেই।’
জাহিদুল ইসলাম বলেন, দেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে প্রত্যেককে নিজের জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।

‘আসুন, আমরা সবাই মিলে এই দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করি,’ বলেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা