• মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৬ অপরাহ্ন
Headline
নারায়ণগঞ্জে অসহায় পরিবারের পাশে ইউএনও এস এম ফয়েজউদ্দিন, খাদ্য সামগ্রী প্রদান ফতুল্লা পাইলটে স্কুলে জিপিএ-৫ পাওয়া ৪৪ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা বিবি রোডে হকারদের শেষ সতর্কবার্তা:যানজট ও হকারমুক্ত করতে সমন্বিত কঠোর অভিযান শুরু হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ সাইলো পরিদর্শনে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম “শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত” প্রতিপাদ্যে নারায়ণগঞ্জে শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে ভার্চুয়ালি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত এসপি অফিস থেকে চানমারী পর্যন্ত লিংক রোডে ফের পরিচ্ছন্নতা অভিযান: ময়লা ফেললে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ডিসির নারায়ণগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৫৪ জন গ্রেফতার নারায়ণগঞ্জে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তায় ২২ ট্রাফিক ভলান্টিয়ারের কার্যক্রম উদ্বোধন দীর্ঘ ৮ বছর পর নারায়ণগঞ্জ সদরে ৬ষ্ঠ কাব ক্যাম্পুরীর মহা আয়োজন: ৭০ স্কুলের ৫৫০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নারায়ণগঞ্জে পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত,এই পদোন্নতি আপনাদের সততা, শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মূল্যায়ন : এসপি

সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন হবে : এসপি মো: হাবিবুর রহমান

এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ / ২৩ Time View
Update : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।

সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, জেলা প্রশাসন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে বদ্ধপরিকর। সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দকৃত অনুদান জেলার সব মণ্ডপে সুষ্ঠুভাবে পৌঁছানো নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

তিনি বলেন, এ বছর জেলায় পূজামণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ২৪০টিতে দাঁড়িয়েছে। মণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে বিসর্জন পর্যন্ত সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি সুদৃঢ় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আজান ও নামাজের সময় প্রয়োজনীয় নীরবতা বজায় রেখে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যগত চর্চা ধরে রাখার আহ্বান জানান।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, পিপিএম-সেবা বলেন, নারায়ণগঞ্জ একটি ধর্মীয় সম্প্রীতির জেলা হিসেবে পরিচিত।এখানে সকল ধর্মের মানুষ একসাথে মিলেমিশে আনন্দ করে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পালন করেন। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার — এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে নারায়ণগঞ্জে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে। প্রতিমা তৈরির শুরু থেকেই আমাদের জেলা পুলিশ নিরাপত্তায় কাজ করছে। প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হবে এবং প্রতিমা বিসর্জনের দিন জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া হবে। প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি, সিসিটিভি মনিটরিং ও মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। কোনো ধরনের অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না। শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের লক্ষ্যে মনিটরিং সেল গঠন করা হবে পুলিশ সুপার কার্যালয় পক্ষ থেকে। আমি আশা করছি কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠু,সুশৃংখল, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণভাবে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরানো বা এডিটেড ভিডিও ব্যবহার করে কেউ গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ হলো-
গুজব ও সাম্প্রদায়িক উস্কানি রোধে সাইবার মনিটরিং সেল সক্রিয়করণ, প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে।
প্রতিটি মণ্ডপে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক প্রবেশ ও প্রস্থান পথ, পর্যাপ্ত আলো এবং ফায়ার সার্ভিসের অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
মণ্ডপে যাতায়াতের রাস্তা মেরামত, আলোকসজ্জা ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট পৌরসভাকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
প্রতিমা বিসর্জনের নির্ধারিত ঘাটসমূহ সংস্কার, বিসর্জনকালে নৌ-পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল প্রস্তুত রাখা এবং সিভিল সার্জন অফিস থেকে অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হবে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য রক্ষায় শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী প্রতিমা নির্মাণ করতে হবে। অসুরের মুখে দাড়ি সংযোজন বা কোনো ধর্ম, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে কটাক্ষ করে এমন বিকৃত রূপ প্রদান করা যাবে না।
সরকারি নির্ধারিত সময়ে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করা হবে এবং ৫ নং ঘাট থেকে সকল ভারী নৌযান সরিয়ে ফেলা হবে। দশমীর দিন নারায়ণগঞ্জ শহরে ভারী যানবাহন প্রবেশ বন্ধ থাকবে। নামাজের সময় উচ্চস্বরে মাইক ও গান-বাজনা বাজানো যাবে না।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নাইমা ইসলাম,জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা বৃন্দ সহ
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সচিব, বিজিবি ও র‍্যাবের সহ-অধিনায়ক, জেলা আনসার কমান্ডারসহ জেলা ও উপজেলা পূজা উদযাপন বিভিন্ন কমিটির সদস্যবৃন্দ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা