নারায়ণগঞ্জে মাদক, অনলাইন জুয়া, সাইবার অপরাধ ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে কয়েকটি এলাকাকে নিয়ে পাইলট প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং বিকেএমইএর সহ-সভাপতি (অর্থ) মোরশেদ সারোয়ার সোহেল।
বুধবার (২৯ তারিখ) সকাল ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১১, সিপিসি-১, নারায়ণগঞ্জ আয়োজিত ‘টাউন হল সভা’য় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ প্রস্তাব দেন।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি সময়োপযোগী এ আয়োজনের জন্য র্যাবকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, মাদক, অনলাইন জুয়া, সাইবার অপরাধ ও কিশোর অপরাধ এখন শুধু আইন-শৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং এটি পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, “আমরা অনেক সভা-সেমিনার করি, কিন্তু দিন শেষে তার বাস্তব ফল খুব একটা দেখা যায় না। আমাদের দেশে আইন আছে, কিন্তু সেই আইন কতটুকু কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজও আমাদের সন্তানদের সঠিক পথে রাখতে অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই আমি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আইনের যথাযথ ও কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
মোরশেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, “মাদকের জাল আমাদের জেলায় যেভাবে বিস্তার লাভ করেছে, তা রাতারাতি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এজন্য পরিকল্পিত ও ধাপে ধাপে এগোতে হবে।”
এ সময় তিনি একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, “আমরা প্রায়ই দেখি সরকার কিংবা ব্যবসায়ীরা নতুন কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে পাইলট প্রজেক্ট হাতে নেয়। ঠিক তেমনি আমি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাব, নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি এলাকাকে নির্বাচন করে একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করুন। লক্ষ্য থাকবে, ওই এলাকাগুলোকে মাদক, অনলাইন জুয়া, সাইবার অপরাধ ও কিশোর অপরাধমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলা। এরপর সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে পুরো নারায়ণগঞ্জে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”
পরিশেষে তিনি আবারও র্যাবকে এমন সময়োপযোগী আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে ব্যবসায়ী সমাজ বরাবরের মতো সবসময় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশে থাকবে।”