আজ রবিবার বিশ্ব বাবা দিবস। প্রতি বছরের জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বিশ্বের বহু দেশের মতো বাংলাদেশেও দিনটি বিভিন্নভাবে স্মরণ করা হয়। সন্তানের জীবনে বাবার অবদান, দায়িত্ববোধ, ত্যাগ ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতি সম্মান জানাতেই এই বিশেষ দিবসের প্রচলন।
একজন বাবা শুধু পরিবারের অর্থনৈতিক দায়িত্বই পালন করেন না, তিনি সন্তানের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথপ্রদর্শক। সন্তানের শিক্ষা, মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও ব্যক্তিত্ব গঠনে বাবার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাবা দিবস অনেকের কাছে কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশের এক বিশেষ উপলক্ষ।
দিবসটি উপলক্ষে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করছেন। কেউ শেয়ার করছেন পুরোনো ছবি, কেউ লিখছেন আবেগঘন বার্তা, আবার কেউ তুলে ধরছেন বাবার সঙ্গে কাটানো বিশেষ মুহূর্ত। এভাবেই দিনটি হয়ে উঠছে পারিবারিক বন্ধন ও ভালোবাসার এক অনন্য প্রকাশ।
বিশ্ব বাবা দিবসের সূচনা হয় যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯১০ সালে সোনোরা স্মার্ট ডড নামের এক নারী তার বাবা উইলিয়াম জ্যাকসন স্মার্টের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই দিবস পালনের উদ্যোগ নেন। সোনোরার মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা একাই ছয় সন্তানকে লালন-পালন করেছিলেন। বাবার সেই অসাধারণ ত্যাগ, দায়িত্ববোধ ও সংগ্রামের স্বীকৃতি দিতেই তিনি একটি বিশেষ দিনের প্রস্তাব দেন।
ক্রমে দিবসটি জনপ্রিয়তা পায় এবং ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি পায়। এরপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বাবা দিবস পালনের প্রচলন শুরু হয়।
বাংলাদেশে বাবা দিবস সরকারি ছুটি বা রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষিত দিবস না হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দিনটি ঘিরে আগ্রহ বেশি দেখা যায়।
অনেকেই এদিন বাবাকে উপহার দিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করেন। কেউ পরিবার নিয়ে বাইরে ঘুরতে যান, কেউ রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে সময় কাটান। অনেক পরিবার ছোট আয়োজন, কেক কাটা বা পারিবারিক মিলনমেলার মাধ্যমে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবাকে নিয়ে ছবি, স্মৃতি ও শুভেচ্ছা বার্তা প্রকাশের প্রবণতাও দিন বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ব্যস্ত জীবনে পারিবারিক সম্পর্ক শক্তিশালী করতে বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। বাবা দিবস সেই অনুভূতি প্রকাশের একটি সুন্দর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
একজন বাবার অবদান কোনো নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তবুও এই দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, জীবনের প্রতিটি ধাপে বাবার ভালোবাসা, ত্যাগ ও দিকনির্দেশনা কতটা মূল্যবান। তাই বিশ্ব বাবা দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়, বরং পরিবারের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের এক অনন্য উপলক্ষ।