সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি কঠোর নির্দেশনা বাস্তবায়নে র্যাব-১১ বদ্ধপরিকর
"নারায়ণগঞ্জের মাসদাইরে স্থানীয় সন্ত্রাসী ও মাদকের বিরুদ্ধে র্যাব-১১ এর চিরুনি অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, ইয়াবা ও গাঁজাসহ ১৩ জন আটক।”
বাংলাদেশ আমার অহংকার এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এদেশের মানুষের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করে যাচ্ছে। আপনারা জানেন, বর্তমান সরকার সন্ত্রাস, মাদক এবং কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি ঘোষণা করেছেন। সরকারের সেই কঠোর নির্দেশনা বাস্তবায়নে র্যাব-১১ বদ্ধপরিকর।
নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন মাসদাইর এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও সন্ত্রাসী চক্রের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছিল। গত রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১১ মাসদাইর এলাকায় একটি বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও ধৈর্যের সাথে র্যাব সদস্যরা সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। মূলত এই মাদক ও অস্ত্র বিরোধী অভিযানের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের জন্য র্যাব-১১ এর ০৪ জন সদস্য গতকাল ০৫/০৫/২৬ তারিখ দুপুর ১২:৩০ ঘটিকার সময় ফতুল্লা থানাধীন মাসদাইর এলাকায় যান। তথ্য সংগ্রহকালে সন্ত্রাসীরা র্যাব সদস্যদের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় ০৩ জন র্যাব সদস্যদের শরীর জখম ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায়, গত ০৫/০৫/২৬ সন্ধ্যা ০৬:৩০ ঘটিকা হতে রাত ১২:০০ ঘটিকা পর্যন্ত সাঁড়াশি অভিযানে এই চক্রের ১৩ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তল্লাশিকালে তাদের আস্তানা থেকে ০৬ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ছুরি-চাকু ১০টি, চাইনিজ কুড়াল ০৭টি, রামদা ০২টি, চাপাতি ০৩টি, সিসি ক্যামেরা ০৪টি, ড্রোন ০১টি, নগদ ১১,৬৪,৫০০/- টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। মাদকের একটি বড় চালান ২৩৫ কেজি গাঁজা, ১১,০০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে, যা তারা এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল। অভিযানকালে ১। মোঃ সোহেল রানা (৪০), ২। মোঃ আঃ রাজ্জাক (৪০), ৩। জোবায়ের হোসেন (২২), ৪। মোঃ শামিম আহম্মদ (২২), ৫। মিঠুন (৩৪), ৬। মোঃ ইমন প্রধান (২৬), ৭। মোঃ আকাশ (৩০), ৮। মোঃ রুবেল (৩৭), ৯। মোঃ আরাফাত হোসেন (২৮), ১০। মোঃ সুজন (৩২), ১১। মোঃ হৃদয় মিয়া (৩২), ১২। মোঃ টুটুল খান (৩৮), ১৩। মোঃ রেজাউল করিম (৪৮) গণদের আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে নারায়ণঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।