
সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ আজ সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সভা, মাসিক সমন্বয় সভা এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। উক্ত সভায় সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভার শুরুতে সেতু সচিব বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মসম্পাদনের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। সকল কাজের প্রতিটি ধাপে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে পালন করতে হবে।
সভায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের এডিপিভুক্ত প্রকল্পসমূহের ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতির বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। সেতু সচিব প্রতিটি প্রকল্পের বাস্তবায়ন চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন এবং বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় প্রেক্ষাপটে ব্যয় সাশ্রয়ী হয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক ও প্রকৌশলীদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় সেতু সচিব বলেন, বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার ‘কানেক্টিভিটি হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে চলমান প্রকল্পগুলোকে দ্রুততম সময়ে আধুনিক ও বিশ্বমানের মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকারের বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। জনস্বার্থে গৃহীত প্রকল্পগুলোর সুফল দ্রুত পৌঁছে দিতে আমাদের কাজের গতি আরও বাড়াতে হবে এবং যেকোনো ধরনের দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করতে হবে সভায় সচিব গুরুত্ব আরোপ করেন।
সচিব সেতু বিভাগ বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অনৈতিক চর্চা পরিহার করে সামগ্রিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে এবং নির্মাণকাজে অপচয় রোধে সচেষ্ট থাকতে সদয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন। বর্তমান সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অপচয় রোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সভায় জানানো হয় যে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বর্তমানে ইলেক্ট্রনিক হাজিরা (Electronic Attendance) ব্যবহার করে সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ নিয়মিত অফিস করছেন। সচিব মহোদয় এই ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থার প্রশংসা করেন এবং কর্মকর্তাদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে জনগণের সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রদান করেন।
এছাড়া, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রতিটি প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়ার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করা হয় এবং তা দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
Leave a Reply