
নারায়ণগঞ্জে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সভা
জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের রাষ্ট্রীয় মালিকানার ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে অংশ নিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হান কবির।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের কাশিপুরস্থ নারায়ণগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতি মিলনায়তনে নারায়ণগঞ্জ জেলা তথ্য অফিস ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এর আয়োজনে গণভোট এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষ্যে ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি বিষয়ক কমিউনিটি ডায়ালগ ও লিফলেট বিতরণের কার্যক্রমে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 
জনগণের মধ্যে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে গনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির সরাসরি জনগণের দোরগোড়ায় গিয়ে প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি জেলার ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্র সরজমিনে পরিদর্শন করেন এবং পদক্ষেপ গ্রহণ করা’সহ জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধ দিয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার-প্রচারণার জন্য দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির বলেন, গণভোটে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশীদারিত্ব প্রমাণিত হয়। দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন নিশ্চিত করতে গণভোটকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সর্বদা সতর্ক রয়েছে। কেউ গুজব বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা তথ্য অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, ভোট হচ্ছে জনগণের আমানত। দেশের মালিকানার ন্যায্য হিস্যা বুঝে নিতে হলে গণভোটে অংশগ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। গোলাপি ব্যালটে সচেতনভাবে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট প্রদানের মাধ্যমে জনগণ তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারবে। তিনি সরকারিভাবে প্রচারিত ডকুমেন্টারি ও তথ্যপত্র মনোযোগ দিয়ে দেখার আহ্বান জানান।
তিনি আরও জানান, গণভোটে জনসচেতনতা বাড়াতে নারায়ণগঞ্জ জেলা তথ্য অফিস বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। শিগগিরই একটি সাংস্কৃতিক দলের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন স্থানে গণভোটের গান পরিবেশন করা হবে।
উঠান বৈঠকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
জেলা তথ্য অফিস সূত্র জানায়, আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর আওতায় জেলার পাঁচ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, রিকশাযোগে সড়ক প্রচার, ভোটালাপ এবং ক্ষুদ্র সংলাপ আয়োজন করা হয়েছে।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আসাদুজ্জামান সরকার, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন, ও নারায়ণগঞ্জ ডায়াবেটিক হাসপাতাল এর পরিচালক সহ এলাকার গণ্যমান্য বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় নারী ও পুরুষ’সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির গনভোটের গুরুত্ব তুলে ধরেন। জনগনের গনভোটে হ্যা বা না ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আপনারা এই গনভোটের প্রচার ও জনসচেতনতা তৈরি করতে সরকারকে সহযোগিতা করবেন। হ্যা ভোট দিলে আপনি জুলাই সনদের বাস্তবায়নের পক্ষে আর না ভোট দিলে আপনাকে আগের অবস্থায়ই ফিরে যেতে হবে। আপনারা সমাজের বা ফ্যামিলির প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত আছেন। আপনাদের উপর এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এই গনভোটের সচেতনতা তৈরি করা।
তিনি সাংবাদিকের সাথে সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, আমাদের সত্যের পক্ষে ও নিরপেক্ষতার পথে থাকতে হবে। সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা যেন উৎসবমুখর পরিবেশে একটি স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নির্বাচন উপহার দিতে পারি-এটাই আমাদের লক্ষ্য।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির বলেন, জেলার ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলো ইতোমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সব ভোটকেন্দ্রকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্রকে সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। যেসব বিষয় ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে, সে অনুযায়ী বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং কঠোর মনিটরিং করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন আয়োজনের জন্য যা যা করণীয়, আমরা তা তা করছি। মানুষের মধ্যে আস্থার জায়গা ফিরিয়ে আনতে জেলার আইন-শৃঙ্খলা সকল বাহিনী সহ আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করছি। আপনাদের সহযোগিতায় আমরা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে একটি অবাধ সুষ্ঠু, উৎসবমুখর সুন্দর ঐতিহাসিক নির্বাচন উপহার দিতে পারব বলে বিশ্বাস করি।
গণভোট প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, মানুষ তাদের পছন্দমতো ভোট দেবেন। তবে গণভোটের বিষয়ে যে নির্দেশনা ও মানদণ্ড রয়েছে, সেগুলো ভোটারদের জানানো হচ্ছে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ ভোটাধিকার ভেবেচিন্তে প্রয়োগ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এ ধরনের প্রচারমূলক কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
Leave a Reply