1. admin@biddyuttimes.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:২২ অপরাহ্ন

অধিবাসীদের নগদ অর্থ দিয়ে গ্রিনল্যান্ড ‘কেনার’ কথা ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১৯ বার পঠিত

যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডবাসীদের বড় অংকের অর্থ প্রদানের বিনিময়ে দ্বীপটি দখলের পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। চারটি বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডকে ডেনমার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হতে এবং সম্ভাব্যভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যোগ দিতে প্ররোচিত করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তারা গ্রিনল্যান্ডবাসীদের এককালীন বড় অংকের অর্থ প্রদানের বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

এই অর্থপ্রদানের সঠিক পরিমাণ এবং কৌশলগত দিকগুলো এখনো অস্পষ্ট। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুইটি সূত্র জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টাসহ মার্কিন কর্মকর্তারা জনপ্রতি ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

ডেনমার্কের এই ওভারসিজ অঞ্চলে (সাগরপারের অঞ্চল) বসবাসরত ৫৭ হাজার মানুষকে সরাসরি অর্থ প্রদানের এই ধারণাটি থেকে একটি ব্যাখ্যা পাওয়া যায় যে, কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র এই দ্বীপটি ‘কিনে নেওয়ার’ চেষ্টা করতে পারে। যদিও কোপেনহেগেন এবং নুক-এর (গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী) কর্তৃপক্ষ বারবার জোর দিয়ে বলছে যে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।

দ্বীপটি অধিগ্রহণের জন্য হোয়াইট হাউসে আলোচিত বিভিন্ন পরিকল্পনার মধ্যে এই কৌশলটি অন্যতম, যার মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়াটি অতিরিক্ত ব্যবসায়িক লেনদেনের মতো মনে হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এবং এটি এমন একটি জনগোষ্ঠীর জন্য অবমাননাকর হতে পারে যারা দীর্ঘকাল ধরে তাদের স্বাধীনতা এবং ডেনমার্কের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা নিয়ে বিতর্ক করে আসছে।

রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সাংবাদিকদের কাছে দ্বীপটি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলার পর, গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন একটি ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে… আর কোনো দখলদারিত্বের কল্পনা নয়।’

কোপেনহেগেন এবং ইউরোপের অন্যান্য নেতারা ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের গ্রিনল্যান্ডের ওপর অধিকার দাবির মন্তব্যে ঘৃণা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র এবং ডেনমার্ক ন্যাটোর (NATO) মিত্র এবং একে অপরের প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আবদ্ধ।

গত মঙ্গলবার ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন, ব্রিটেন এবং ডেনমার্ক একটি যৌথ বিবৃতি জারি করে বলেছে যে, গ্রিনল্যান্ড এবং ডেনমার্ক কেবল তাদের সম্পর্কের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

দ্বীপটি কেনার আলোচনা এবং সরাসরি অর্থ প্রদানের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস রয়টার্সকে গত বুধবার প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দেওয়া বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে।

এক প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় লেভিট স্বীকার করেন যে, ট্রাম্প এবং তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা ‘সম্ভাব্য ক্রয় প্রক্রিয়া কেমন হতে পারে তা খতিয়ে দেখছেন।’

রুবিও বলেছেন, তিনি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ডেনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন। ডেনিশ দূতাবাস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে এবং ওয়াশিংটনে গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধি অফিস কোনো সাড়া দেয়নি।

ট্রাম্প দীর্ঘকাল ধরে যুক্তি দিয়ে আসছেন যে, বেশ কিছু কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখল করা প্রয়োজন। এর মধ্যে একটি হলো দ্বীপটি উন্নত সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে প্রয়োজনীয় খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ। তিনি আরও বলেছেন যে, পশ্চিম গোলার্ধকে ব্যাপকভাবে ওয়াশিংটনের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবের অধীনে থাকা প্রয়োজন।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, এক বছর আগে ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের আগে থেকেই গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছিল। তবে গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে একটি দুঃসাহসিক অভিযানে আটক করার পর এই বিষয়ে নতুন করে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টারা মাদুরো অভিযানের সাফল্যকে ট্রাম্পের অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণে কাজে লাগাতে আগ্রহী।

রোববার এয়ারফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন, এবং ডেনমার্ক এটি রক্ষা করতে পারবে না। এটি অত্যন্ত কৌশলগত একটি স্থান।’

হোয়াইট হাউসের আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে যে, এককালীন অর্থ প্রদানের এই আলোচনা একেবারে নতুন নয়। তবে গত কয়েকদিনে এটি আরও গুরুত্ব পেয়েছে এবং উপদেষ্টারা আরও বড় অংকের কথা ভাবছেন। জনপ্রতি ১ লাখ ডলার দেওয়ার একটি বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে মোট অর্থপ্রদানের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার।

তবে এই অর্থপ্রদানের বিশদ বিবরণ এখনো অস্পষ্ট—যেমন ট্রাম্প প্রশাসন এই পথে এগোলে কখন এবং কীভাবে টাকা দেওয়া হবে অথবা এর বিনিময়ে গ্রিনল্যান্ডবাসীদের কাছ থেকে ঠিক কী আশা করা হবে। হোয়াইট হাউস বলেছে যে সামরিক হস্তক্ষেপ সম্ভব, তবে কর্মকর্তারা এও বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপটি কেনার বা কূটনৈতিক উপায়ে অর্জনের পক্ষপাতি।

Please Share This Post in Your Social Media


Deprecated: File Theme without comments.php is deprecated since version 3.0.0 with no alternative available. Please include a comments.php template in your theme. in /home/biddyutt/public_html/wp-includes/functions.php on line 6121

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2024
Design By Raytahost