
নবজাতকদের প্রাণঘাতী রোগ ‘পারসিস্টেন্ট পালমোনারী হাইপারটেনশন অফ নিউবর্ন (পিপিএইচএন) চিকিৎসায় দেশে প্রথমবারের মতো ‘নাইট্রিক অক্সাইড জেনারেটর’ স্থাপন করল বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতাল।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড মোড়ে অবস্থিত বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ যুগান্তকারী চিকিৎসা প্রযুক্তির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
হাসপাতালের জিএম (অপারেশন্স) মোঃ নুরুজ্জামানের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাতুয়াইল শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এর পরিচালক ও বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরামের মহাসচিব ডা. মো. মজিবুর রহমান মুজিব।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরামের প্রেসিডেন্ট (ইলেক্ট) অধ্যাপক ডা. বেগম শরিফুন্নাহার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন, বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদা সুলতানা আসমা। দেশের খ্যাতনামা নবজাতক বিশেষজ্ঞ ও শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. শরিফুন্নাহার বলেন, “নাইট্রিক অক্সাইড জেনারেটর ব্যবহার নবজাতকদের প্রাণরক্ষা ও উন্নত চিকিৎসায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। এটি নবজাতক মৃত্যুহার কমিয়ে স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের এসডিজি অর্জনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।” এমন একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ নেয়ায় বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে এরকম আরো মেশিন স্থাপন করা গেলে পিপিএইচএন আক্রান্ত অধিক সংখ্যক নবজাতককে চিকিৎসা দেয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। সক্ষমতা সম্পন্ন অন্যান্য হাসপাতালকেও এ ধরনের মেশিন স্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. মজিবুর রহমান জানান, “প্রচলিত চিকিৎসায় পিপিএইচএন আক্রান্ত নবজাতকের ৫০ শতাংশেরও কম বেঁচে থাকার সম্ভাবনা থাকলেও, নাইট্রিক অক্সাইড ব্যবহারে এ হার ৯৮ শতাংশেরও বেশি।
তিনি বলেন, পারসিস্টেন্ট পালমোনারি হাইপারটেনশন (পিপিএইচএন) একটি মারাত্মক জটিল অবস্থা, যেখানে নবজাতকের ফুসফুসে উচ্চ রক্তচাপের কারণে, জন্মের পর স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটে। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসে মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয় এবং প্রতিবছর বহু নবজাতকের অকাল মৃত্যু ঘটে”। এ সময় তিনি মেশিনটির প্রযুক্তিগত বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
“উন্নত দেশগুলোতে যেখানে এ চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, ‘বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতাল’ তা অত্যন্ত স্বল্প খরচে প্রদান করার উদ্যোগ নিয়েছে।”- বিশেষ অতিথির বক্তব্যে একথা জানান হাসপাতালটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মাহমুদা সুলতানা আসমা।
‘বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালে’র এ পদক্ষেপ দেশের নবজাতক সুরক্ষায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন।
Leave a Reply