
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শতভাগ নিরপেক্ষতা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে রাষ্ট্রকে একটি ফ্রি, ফেয়ার ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এ আশ্বাস দেন।
অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে জেলা প্রশাসক বলেন, মানুষের মধ্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল। তবে এবার সেই আস্থার সংকট দূর করতে প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। মাঠপর্যায়ের কাজের মাধ্যমেই নিরপেক্ষতা প্রমাণ করা হবে।
তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীরা পক্ষপাতদুষ্ট–এমন অভিযোগে তারা বারবার আহত হয়েছেন। এবার সরকার নির্ধারিত নির্দেশনার আলোকে দায়িত্ব পালন করে প্রমাণ করা হবে যে প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ।
বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু এই মুহূর্তে সেগুলো দেখার সুযোগ নেই। বিশ্ব যেভাবে বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে আছে, সেখানে দেশের ও প্রশাসনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করাই প্রধান লক্ষ্য।
অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত কাজ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিয়মিত মাঠপর্যায়ে তদারকি করা হচ্ছে এবং প্রত্যেক এলাকায় ঘুরে মানুষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। মাঠে থাকা কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে আরও বেশি যোগাযোগ রেখে ভয় ও আতঙ্ক দূর করার আহ্বান জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা একটি প্রিভিলেজড অবস্থানে রয়েছেন। অতীতে ভাষা আন্দোলন বা মুক্তিযুদ্ধের মতো ঐতিহাসিক সময়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকলেও এখন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব তাদের সামনে এসেছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে কেউ জয়ী হবেন, কেউ পরাজিত হবেন। তবে প্রশাসনের লক্ষ্য কোনো ব্যক্তি বা দল নয়; লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ ও জনগণের জয় নিশ্চিত করা।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, এই নির্বাচনকে কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে দেখলে চলবে না। পর্যাপ্ত ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত না হলে নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং এত আয়োজন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।
সভা শুরুর পর জেলা প্রশাসক জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে উপস্থিত প্রতিনিধিদের কাছ থেকে অবহিত হন। পরে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে কেন্দ্রভিত্তিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিতকরণ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।
মতবিনিময়ের শুরুতেই তিনি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিদের কাছে জানতে চান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে কিনা এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র কী।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সিরাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শামিম, এনএসআইয়ের উপপরিচালক মো. সফিকুর রহমানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply