
আংশিক নয়, সম্পুর্ন কুতুবপুর ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন
সম্পূর্ণ কুতুবপুর ইউনিয়নকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে “কুতুবপুর ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্তকরণ বাস্তবায়ন কমিটি”। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কমিটির আহ্বায়ক হাজী মোঃ শহিদুল্লাহ। এসময় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী মো. নুরুল হক জমাদ্দার ও সদস্য সচিব এস.এম. কাদিরসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ফতুল্লা থানাধীন কুতুবপুর ইউনিয়নটি নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি ঘনবসতিপূর্ণ ও শিল্পঘন এলাকা। ৩ হাজার ৬৪৭ একর আয়তনের এই ইউনিয়নে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বসবাস। প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রায় সাত হাজার। ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ অকৃষি পেশায় নিয়োজিত এবং এলাকায় অসংখ্য শিল্পকারখানা, বহুতল ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, “কুতুবপুর ইউনিয়নে ওয়াসা পানির সরবরাহ করলেও স্যুয়ারেজ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নেই। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অনুন্নত, সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ইউনিয়নের সীমিত বাজেটে এসব সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। অথচ পৌরসভার সমান হারে খাজনা দিতে হলেও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছি আমরা।”
সম্প্রতি প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে কুতুবপুর ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডকে সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আনার প্রস্তাবের বিষয়ে নেতারা বলেন, “এটি বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত। পুরো ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত না করলে কুতুবপুরবাসীর প্রতি অবিচার করা হবে।”
কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এর আগে ২০১২, ২০১৩, ২০২০ ও ২০২৪ সালে জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও প্রশাসকের কাছে তারা স্মারকলিপি দিয়েছেন। সর্বশেষ ১৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে জেলা প্রশাসক ও সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছেও একই দাবি জানানো হয়েছে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি সম্পূর্ণ ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্ত না করা হয়, তবে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব। প্রয়োজনে নারায়ণগঞ্জের রাজপথ অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, দাবি বাস্তবায়নে লিফলেট বিতরণ, উঠান বৈঠক, মানববন্ধন ও জনসমাবেশসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
শেষে কমিটির নেতারা সাংবাদিকদের উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সরকারের কাছে দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
Leave a Reply