
জুলাই যোদ্ধা সিরাজের স্ত্রীর পাশে নারায়ণগঞ্জ ডিসি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার প্রয়াত অহিদ মিয়ার ছেলে মো. সিরাজুল ইসলাম একসময় অটোরিকশা চালিয়ে কোনোরকমে সংসার চালাতেন। রাজনীতি বা ঝামেলায় জড়াতেন না। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের হত্যাযজ্ঞ তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। আন্দোলনের দিনগুলোতে তিনি শিক্ষার্থীদের বিনা ভাড়ায় এক স্থান থেকে আরেক স্থানে পৌঁছে দিতেন।
শেখ হাসিনা ভারত পালিয়ে যাওয়ার পর বিজয় মিছিলে যোগ দিতে চাষাঢ়া শহীদ মিনারের পথে নারায়ণগঞ্জের ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন সিরাজ। নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল ও পরে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও তার শরীর থেকে সব রাবার বুলেট বের করা সম্ভব হয়নি। সেই আহত শরীর নিয়েই তিনি অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন।
এর মধ্যে নতুন বিপদ নেমে আসে তার স্ত্রী শাহনাজ বেগম টিনার দুটি কিডনিই প্রায় বিকল হয়ে যায়। ধার-দেনা করে চিকিৎসা শুরু করেন সিরাজ। শেষমেশ স্ত্রীকে ভর্তি করতে হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এতে বন্ধ হয়ে যায় তার একমাত্র আয় অটোরিকশা চালানো।
জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সহসমন্বয়ক নিরব রায়হান বিষয়টি জানার পর সিরাজকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলামের কাছে সাহায্যের আবেদন করেন। ডিসি জাহিদুল ইসলাম ঘটনাটি শোনার পরপরই আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করেন এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে চিকিৎসা সহায়তার আবেদন করার পরামর্শ দেন।
নিরব রায়হান বলেন, ডিসি মহোদয় জুলাই বিপ্লবকে অন্তর থেকে ধারণ করেন। আজ আহত জুলাই যোদ্ধা সিরাজুলকে নিয়ে গেলে তিনি ধৈর্য ধরে সব কথা শুনেছেন। সিরাজের স্ত্রীর কিডনি বিকল হওয়ার কথা জানার পরই সহায়তা দিয়েছেন। যদি দেশের প্রতিটি জেলায় এমন ডিসি থাকত, তাহলে জুলাই বিপ্লব সফল হতো।
সিরাজুল ইসলাম কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য অর্থ জোগাড় করতে না পেরে হতাশ ছিলাম। কিন্তু ডিসি স্যার আমার বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, দায়িত্বে থাকতে জুলাই বিপ্লবে শহীদ বা আহতদের পরিবারের কেউ বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না।
Leave a Reply