
নারায়ণগঞ্জ জেলা সহ সারাদেশে মানবিক জেলা প্রশাসক হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সাবেক চলচ্চিত্রশিল্পী শাহানার পাশে দাঁড়ালেন। আর্থিক সাহায্য চেয়ে অসহায় এই অভিনয় শিল্পী লিখিত আবেদন করেন জেলা প্রশাসক বরাবর। এই আবেদন পেয়ে জেলা প্রশাসক দ্রুততম সময়ে শাহানার সমস্যার নিষ্পত্তি করলেন।
জেলা প্রশাসক তার কার্যালয়ে শাহানাকে আপ্যায়ন করান এবং তিনি গুণী এই শিল্পীর দুঃখ-দুর্দশার কথা ধৈর্য সহকারে শুনেন। তাকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা করেন। এবং আগামীতেও সাহায্য সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
আর্থিক সহয়তার চেক পাওয়ার পরে এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শিল্পী শাহানা বলেন, আমার স্বামী মারা গেছে এক যুগেরও বেশি আগে। আমি আমার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে কোনোরকম করে সংসার চালাচ্ছিলাম। কিন্তু অসুস্থতার কারণে চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে পারছি না এখন আর।তিনি আরও বলেন, চলচ্চিত্রে আগের মতো কাজও নাই। বাধ্য হয়েই জেলা প্রশাসক স্যারের কাছে আবেদন করেছিলাম। কারণ অনেকের কাছে শুনেছি, নতুন এই জেলা প্রশাসক স্যার অনেক ভালো মানুষ। মানুষের দুঃখ দুর্দশার কথা শুনলে পাশে দাঁড়ান ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
এই শিল্পী বলেন, আজকে নিজের চোখে দেখলাম উনার অমায়িক ব্যবহার ও তিনি এত ব্যস্ত থাকার পরেও আমার কথাগুলি খুব ধৈর্য সহকারে শুনেন। একজন শিল্পী হিসেবে আমাকে উনি অনেক সম্মান দেখিয়েছেন, আমার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন।
শাহানা এই প্রতিবেদকে জানান যে,বাসা ভাড়া দিতে না পারায় বাসার মালিক বাসায় তালা ঝুলিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। ডিসি স্যারের আর্থিক সহয়তার টাকাটা দিয়ে সবার আগে বকেয়া বাসা ভাড়া দেবো।টাকার অভাবে তাকে প্রায়শই না খেয়েই রাত কাটাতে হয় দাবি করে তিনি বলেন, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া আমার একমাত্র মেয়ের মৌলিক চাহিদা পূরণ করার ক্ষমতা আমার আর নেই।
তিনি মা হিসেবে অনেক কষ্ট নিয়ে বিভিন্নভাবে দ্বারে দ্বারে আর্থিক সহায়তার জন্য চেষ্টা করছেন। কিন্তু আগে কোনো সহায়তা পায়নি বলেও জানিয়েছেন। শাহানা জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মাদানী নগর এলাকায় একটা ভাড়া বাসায় থাকেন বলে জানিয়েছেন।এই আর্থিক অনুদান পেয়ে আমি অনেক খুশি হয়েছি ও মন ভরে দোয়া করব ডিসি স্যারের জন্য। মহান আল্লাহ পাক তাকে দীর্ঘ হায়াত দান করুক যাতে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারে।
Leave a Reply