
নারায়ণগঞ্জ শহরে রমজানের শুরু থেকেই বিভিন্ন সড়কের ফুটপাত দখল করে বাহারি ইফতার সামগ্রী বিক্রি করছে অভিজাত রেস্তোরাঁগুলো। এতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পথচারীরা।নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া যানজটের ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিয়েছেন। তাই পথচারীরা যেন ফুটপাত দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারে সেই ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য শহরবাসী আশা পোষণ করছেন। শহরবাসীর বিশ্বাস মানবিক ডিসি মোঃ জাহিদুল ইসলাৃম মিয়া একের পর এক সকল সমস্যাই দূর করবেন বৃহৎ জনস্বার্থে। যেহেতু তিনি নারায়ণগঞ্জকে গ্রীন এন্ড ক্লিন সিটি করার ঘোষণা দিয়েছেন সেহেতু তিনি পর্যায়ক্রমে সকল সমস্যারই সমাধান করবেন এটা নারায়ণগঞ্জবাসীর বিশ্বাস। নগরবাসী খুব দ্রুত অন্ততপক্ষে হোটেল গুলোর রাস্তা দখল করে ইফতারি বাজার ভেঙ্গে হোটেলের ভিতরে বিক্রির নির্দেশ প্রদান করার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, ব্যবসায়ীরা ফুটপাত দখল করে পসরা সাজিয়ে ইফতার বিক্রি করায় হাঁটার জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। হকারদের কারণে ফুটপাত এমনিতেই সংকীর্ণ হয়ে থাকে, কিন্তু রমজানে তা আরও বেড়ে যায়।
বিশেষ করে সুগন্ধা প্লাস, আলম কেবিন, হোয়াইট হাউস, সুইট নেশন, পাল বেকারি, প্যারিস বাগেত, ভিক্টর কেক লেন, সুমাইয়া বিরিয়ানি হাউসের মতো অভিজাত রেস্তোরাঁগুলো ফুটপাতের ওপর ইফতার বিক্রির পসরা সাজিয়ে রেখেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছেন অস্থায়ী কয়েকজন ইফতার সামগ্রি বিক্রেতাও।
শহরের ব্যস্ততম বঙ্গবন্ধু সড়ক ও নবাব সিরাজউদ্দৌলা সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, এসব রেস্তোরাঁর ভেতরে যথেষ্ট জায়গা থাকলেও ফুটপাতেই ইফতার সামগ্রী সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এমনকি অনেক দোকানদার ফুটপাতের উপরেই গরম তেলে ইফতার তৈরি করছেন, যা পথচারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অফিস ফেরত আরিফ আরমান বলেন, “প্রতিদিন ফুটপাত ব্যবহার করি, কিন্তু সুইট নেশন ও প্যারিস বাগেতের সামনে ইফতার বিক্রির কারণে পুরো ফুটপাত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আমাদের বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় নামতে হয়।”
বিকেলে কেনাকাটা করতে আসা নাজমুল হক নামে এক ক্রেতা বলেন, “বাচ্চাকে নিয়ে মার্কেটে এসেছি। রাস্তায় যানবাহন চলতেছে। বাচ্চা নিয়ে তো হাঁটাও যায় না। তার উপর ফুটপাতও যদি এইভাবে বন্ধ করে রাখে তাহলে আমরা কীভাবে চলাচল করবো?”
ফুটপাতের উপর ইফতারের পসরা সাজানোর কারণ জানতে চাইলে সুগন্ধা প্লাস রেস্তোরাঁর এক কর্মী রবিন শিকদার বলেন, “ভেতরে এত জায়গা নেই যে সেখানে ইফতার তৈরি ও সাজিয়ে রাখা যাবে। গ্যাস সিলিন্ডার, চুলা ও অন্যান্য জিনিসপত্র রাখার জন্য বাইরে ফুটপাতই আমাদের ভরসা।”
তবে, সাধারণ পথচারীরা বলছেন, ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের জন্য বরাদ্দ, কিন্তু রমজানে তা বাণিজ্যিক স্থানে পরিণত হওয়ায় নাগরিক ভোগান্তি বেড়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।
Leave a Reply